দুটি আসনে মাননীয়াকে লড়তে দেব না: শুভেন্দু

0

কলকাতা: সোমবার নন্দীগ্রামে তেখালির সভামঞ্চ থেকে আসন্ন নির্বাচনের দামাম বাজিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চে দাঁড়িয়েই সংগ্রাম ভূমি নন্দীগ্রামের প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও তিনিই লড়বেন, একথাও জানান। আর এতেই নড়চড়ে বসে রাজ্য গেরুয়া শিবির। কারণ শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা নিঃসন্দেহে নির্বাচনের আগে পদ্ম শিবিরকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারে।

তড়িঘড়ি করে শুভেন্দুও দক্ষিণ কলকাতা থেকে আসন্ন নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে পঞ্চাশ হাজার ভোটে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। রাতের দিকে টুইট করে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘স্বাগত’ জানিয়ে হুঙ্কার দেন, “একুশ বছর সঙ্গে ছিলাম। এবার নন্দীগ্রামে সামনা-সামনি দেখা হবে।” মঙ্গলবার খেজুরিতে সভা করে আক্রমণের বৃত্ত সম্পূর্ণ করলেন শুভেন্দু। এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে দুটি আসনে (নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর) কিছুতেই লড়তে দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই নিয়েই সরগরম বঙ্গ রাজনীতি।

মঙ্গলবার খেজুরিতে পালটা সভা করে বিজেপি। সভায় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়-সহ অন্যান্যরা। সেই সভাতে স্বাভাবিকভাবেই আক্রমণের নিশানা ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা থেকেই চাঁচাছোলা ভাষায় মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেন শুভেন্দু। বলেন, “মমতা রাজনৈতিকভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। গত পাঁচ বছরে নন্দীগ্রামের কথা মনে পড়েনি। মাননীয়া আপনি আর যাই করুন না কেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর লেটার হেড ছাপিয়ে রাখবেন, কাজে লাগবে।”

এরপরই হুঙ্কার ছেড়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু বলেন, “জেনে রাখুন মাননীয়া, কোনওভাবেই আপনাকে দুটো আসনে লড়তে দেব না। হয় নন্দীগ্রামে লড়ুন নাহলে ভবানীপুরে।” সেই সঙ্গে খেজুর সভার আগে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, “খেজুরিতে কর্মীরা মার খেয়েছে, পুলিশ তখন ব্যস্ত ছিল মাননীয়াকে পুরুলিয়ায় পৌঁছতে।” অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘তোলাবাজ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি।