জল্পনার অবসান, আব্বাস সিদ্দিকীর ISF-এর সাথে জোটেই শিলমোহর বাম – কংগ্রেসের

0

কলকাতা: একুশের নির্বাচনে দ্বিশঙ্কু লড়াইকে ত্রিশঙ্কু করতে মরিয়া বাম – কংগ্রেস জোট। আর তাই শেষ পর্যন্ত বাম – কংগ্রেস ও পিরজাদা আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের জোটেই শিলমোহর পড়ল। ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হতে আর বেশি দিন বাকি নেই। তার আগে বিগত কয়েকদিনের ধরেই নতুন জোট নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই জল্পনারই অবসান ঘটল। এবার একুশের নির্বাচনে বাম – কংগ্রেস – ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট জোট করেই মাঠে নামতে চলেছে বিমান বসু, অধীররঞ্জন চৌধুরীরা। পাশাপাশি আস্থা রাখছেন আইএসএফ, এনসিপি, আরজেডির মতো ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলি জোটের উপর। মঙ্গলবার আলিমুদ্দিনে জোট বৈঠক শেষে একযোগে একথা ঘোষণা করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, আসন রাফা নিয়ে মঙ্গলবার কিছুই জানানো হয়নি। তাছাড়া, কোন অঙ্কে তিন শিবিরের আসন সমঝোতা হচ্ছে, সেটাও ঘোষণা করেনি জোট শিবির। দল গঠনের পর জোটের শরিক হতে ফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিজে চিঠি লিখেছিলেন পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী। পরে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের তরফে চিঠি লেখা হয়, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীকেও। সব পক্ষের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এই জোটের অন্যতম কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন সমঝোতা। সূত্রের খবর, বাম-কংগ্রেস জোটের কাছে বাকি ১০১টি আসনের মধ্যে আব্বাস ৬০ – ৭০টা আসন দাবি করেছিলেন। যা নিয়ে চিন্তায় চিন্তায় পড়েছিল বাম – কংগ্রেস। জোট নেতৃত্ব সেই পরিমাণ আসন কোনওভাবেই ছাড়তে রাজি নন। জটিলতা ছিল আব্বাসের দল যে যে আসন দাবি করেছে, তা নিয়েও।

তবে শোন যাচ্ছে, আব্বাস সিদ্দিকির দল আইএসএফ কে সর্বোচ্চ ১৮ টি আসন ছাড়া হতে পারে। যার মধ্যে সিংহভাগ আসন রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা এবং বীরভূম জেলায়। কিন্তু আব্বাস সিদ্দিকী মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের বেশ কিছু আসনে লড়তে চেয়েছে। এই আসনগুলো আবার কংগ্রেসের গড় হিসেবেই পরিচিত। আর এই আসনগুলো কংগ্রেস ছাড়তে নারাজ। কারণ রাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্ব বলতে ওইটুকুই। এই জটিলতার মধ্যেও মঙ্গলবার সরস্বতী পূজার দিন বৈঠক বসে জোটের শীর্ষ নেতৃত্বের। বৈঠকে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু (Biman Basu), প্রদেশ কংগ্রেস সভাপত অধীর চৌধুরী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাম ও কংগ্রেসের একাধিক নেতা। ভারচুয়ালি উপস্থিত ছিলেন আব্বাস সিদ্দিকির ভাই নওসাদ সিদ্দিকিও। তবে সাংবাদিক বৈঠকে আব্বাস সিদ্দিকির দলের কেও উপস্থিত ছিলেন না।

বৈঠক শেষে অধীর চৌধুরী জানান, ‘‘আমাদের মধ্যে আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়েছে। কে, কত আসনে লড়বে এখনই বলতে চাই না। কারণ অনেক দল জোটে সামিল হতে চেয়েছে। ওই দলগুলির মধ্যে রয়েছে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ), রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি), জনতা দল সেকুলার (জেডিএস) এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি)।। জোটে শামিল হলে তাদের জন্য কিছু আসন ছাড়তে হবে। তাই পরে যাতে বির্তক তৈরি না হয় সেজন্য সংখ্যাটা এখনই বললাম না।” তাই এই ছোট দলগুলি যাতে সম্মান পায়, তা নিশ্চিত করতেই আগেভাগে নিজেদের ভাগের আসনের সংখ্যা ঘোষণা করতে চাইছে না জোট নেতারা।

অধীরের আরও দাবি,”রাজ্যে বাম-কংগ্রেস জোটের উপর আস্থা বাড়ছে মানুষের। বাংলার লড়াইটা শুধু বিজেপি-তৃণমূলের লড়াই নয়। বাংলার লড়াইটা হতে চলেছে ত্রিমুখী। বাম-কংগ্রেস জোট কাউকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য লড়াই করছে না। নিজেরা ক্ষমতা দখলের জন্য লড়াই করছে।” একুশের নির্বাচনে রাজ্যে জোট সরকার ক্ষমতায় আসবে, একথাও ঘোষণা করেন প্রত্যয়ী অধীর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here