২১-এর হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনে মমতার গড় ভবানীপুর থেকে বিজেপির হয়ে লড়তে পারেন বাবুল সুপ্রিয়

0

কলকাতা: নন্দীগ্রামে দিদি বনাম দাদার লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে গোটা বাংলা। তৃণমূলের রণভূমিতে সম্মুখ সমরে শুভেন্দু – মমতা। যা ভোটের উত্তাপকে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনিতেই ২৯৪ টা আসনের মধ্যে সবার নজর নন্দীগ্রামেই। কারণ একুশে মুখ্যমন্ত্রীই সেখানে প্রার্থী। সুত্রের খবর মুখ্যমন্ত্রী লড়বেন শুধু নন্দীগ্রাম থেকেই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রার্থী হবেন অন্য কোনও তৃণমূলের দাপুটে নেতা। অন্য দিকে শোনা যাচ্ছে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়তে পারেন বাবুল সুপ্রিয়।

নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে তিনি লড়বেন নন্দীগ্রাম থেকে। সেই সঙ্গে তখন সম্ভাবনা ছিল একসঙ্গে দুই জায়গায় অর্থাৎ নন্দীগ্রামে ও ভবানীপুরে এক সঙ্গে লড়বেন মুখ্যমন্ত্রী। এই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী চ্যলেঞ্জ ছুড়ে বলেছিলেন মাননীয়া নন্দীগ্রামে হারবে জেনেই দুই জায়গা থেকে লড়ছেন। ক্ষমতা থাকলে এক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়ে দেখান। সেই চ্যলেঞ্জ মমতা গ্রহন করে দলবদলি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে হারানোর পাল্টা চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দিলেন মমতা। অন্যদিকে ভবানীপুর কেন্দ্রে জয় আনা অতটাও সহহ নয় এটা বিজেপি খুব ভালো করে জানে। তাই সেই কেন্দ্র বিজেপি কোনও হেভি ওয়েট নেতাকে প্রার্থী করতে চাইছে। সেই মুখ হতে চলেছেন কেন্দ্রিয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। বাবুল সুপ্রিয় বিজেপির সিরস নেতাদের স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভবানীপুর কেন্দ্র লড়তে তাঁর কোনও আপত্তি নেই।

বুধবার চার্টার্ড বিমানে বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটির সদস্যরা দিল্লিতে হাজির হন প্রার্থী তালিকা নিয়ে। বৃহস্পতিবার মোদী-শাহের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাচনী কমিটির বৈঠক হয়। দিল্লিতে সারা দিন চলে আলোচনা। মমতাকে হারারে রণনিতিতে কোনও ত্রুটি রাখাতে চাইছে না বিজেপি। যতদূর খবর রয়েছে তাতে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে জগ দেওয়া নেতারা নিজের নিজের কেন্দ্রে বিজেপি হয়ে লড়বেন। নন্দীগ্রাম থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বিপরীতে শুভেন্দুকে দাঁড় করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র নেতৃত্ব। স্বাভাবিকভাবেই নন্দীগ্রাম বিজেপি তথা শুভেন্দুর কাছে হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘প্রেস্টিজ ফাইটে’র জায়গা। এমনিতেও নন্দীগ্রাম হলো তৃণমূলের শক্তিকেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর কথায় ‘লাকি’ জায়গা। তাই নন্দীগ্রামের হাওয়া একবার তৃণমূলের দিকে ঘুরে গেলে ঘাসফুল শিবিরকে নির্বাচনে রোখা মুশকিল হয়ে যাবে, যা নিয়ে ওয়াকিবহাল রাজ্য বিজেপি। তাই ঝুঁকি না নিয়ে নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’ শুভেন্দুকেই মমতার বিপরীত ঠেলে গিয়েছে গেরুয়া শিবির। নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন রাজ্যবাসীর প্রথম নজর থাকবে নন্দীগ্রামে যেখানে লড়াই হবে দিদি বনাম দাদার। দ্বিতীয়ে থাকবে মমতার কেন্দ্র ভবানীপুর।