টিকিট না পেতেই বিজেপিতে সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই, জটু লাহিড়ী, সোনালী গুহ সহ আরও অনেকে

0

হোস্টিংস: ঠিক এই পূর্বানুমানটাই হয়তো করেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘বাইরে তৃণমূল, ভিতরে বিজেপি’ – শব্দবন্ধতেই আটকে ছিল তৃণমূলের বেশ কিছু পুরোনো নেতার ভবিষ্যত। যা বুঝতে পেরেছিলেন দুদে রাজনীতিবিদ মমতা। প্রকাশ্যে না হলেও ভিতরে ভিতরে ঠিক খোঁজ রাখছিলেন তিনি। প্রার্থী তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তেই খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন ‘দিদির’ এককালীন পুরোনো সৈনিকরা। গেরুয়া শিবিরে নিজেদের ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত দেখছেন তারা। লাইন লাগিয়েছেন বিজেপির রাজ্য অফিসের কার্যালয়ের সামনে।

উল্লেখ্য সবাইকে চমকে দিয়ে তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘একুশে’র প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন ২৭ জন পুরোনো বিধায়ককে। যাদের মতিগতি সুবিধার ঠেকছিল না তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্বের। তাই তাদের জায়গায় টিকিট দেওয়া হয়েছিল সেলেব কিংবা দলের একনিষ্ঠ কর্মীদের। দলনেত্রীর এই কঠিন সিদ্ধান্ত কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারছেন না তিনি। শাসকদলের হয়ে টিকিট না পাওয়াদের তালিকায় ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, জটু লাহিড়ি, সোনালি গুহ সহ আরও অনেকে।

সিঙ্গুরে মাস্টারমশাই রবীন্দ্রনাথের জায়গায় টিকিট দেওয়া হয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম মুখ বেচারামকে। যার সাথে আবার মাস্টারমশাইয়ের সাপে নেউলে সম্পর্ক। টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হয়ে লড়াই কথা জানালেও পরক্ষণই মতবদলে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত নেন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য কার্যালয় হেস্টিংসে লকেট চট্টোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা এবং সিঙ্গুর আন্দোলনের অন্যতম কাণ্ডারী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য যোগ দেন বিজেপিতে। উল্লেখ্য, এর আগেই রবীন্দ্র পুত্র শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে পদ্ম ঝাণ্ডা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু অটুট ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। এবার তিনিও গেলেন।

রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এককালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী সোনালী গুহ। সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁকে একুশে প্রার্থী করেন তাঁর পুরোনো দল। বসিরহাট দক্ষিণের তৃণমূল বিদায়ী বিধায়ক দিব্যেন্দু বিশ্বাস, শিবপুরের বিধায়ক অশীতপুর জটু লাহিড়ী, সাকরাইলের শীতল সর্দার ও টলিউড অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী। আবার অন্যদিকে টিকিট পেয়েও দল ছেড়েছেন মালদাহের তৃণমূল নেত্রী সরলা মুর্মু। তার সঙ্গে দল ছেড়েছেন আরও ১৪ জন সদস্য। তাই নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগেও তৃণমূলে ধস আর বিজেপিতে যোগদান অব্যাহত।