একটি বিধানসভা কেন্দ্রের ‘প্রার্থী’ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ অনুব্রতর

0

বীরভূম: তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেই রাজনীতিতে তাঁর পরিচয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগতও তিনি। দলেরও তাঁর উপর অগাধ ভরসা। একুশের নির্বাচনের প্রাক্কালে একদিনের জন্যেও তাঁকে বেসুরো শোনায়নি। মুখ্যমন্ত্রীর হ্যাটট্রিক নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী। তিনি হলেন বীরভূম জেলার তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টদা। প্রতিবার বীরভূমের ১১ টি বিধানসভা তিনিই দেখভাল করেন।

এই এগারোটা বিধানসভার প্রার্থী তালিকা শাসক দল ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু শাসক দলের দেওয়া একটি আসনের প্রার্থীকে একেবারেই পছন্দ নয় অনুব্রতর। সেটা হলো দুবরাজপুর কেন্দ্র। তাই বাকি ১০ টি আসনের দায়িত্ব নিলেও এই একটি আসনের দায়িত্ব তিনি নেবেন না, তা দলকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। ফলে প্রার্থী ঘোষণার পর তিনদিন কেটে গেলেও দুবরাজপুরে কোনও উৎসাহ নেই তৃণমূল কর্মীদের। তাঁরা কাজেও নামেননি এখনও।

উল্লেখ্য, দল বরাবরই অনুব্রত মণ্ডলের পাঠানো তালিকাকেই প্রার্থীকেই স্বীকৃতি দেয়। এবারও এমনটাই ঘটেছিল। ব্যতিক্রম শুধু একটি কেন্দ্র, দুবরাজপুর। সেখানে একুশের নির্বাচনে প্রার্থী করা হয়েছে খয়রাশোলের বাসিন্দা গৃহবধূ অসীমা ধীবরকে। আর এতেই আপত্তি জানিয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। এমনকি দুবরাজপুরের প্রার্থী বদলের জন্য নতুন করে ফের তিনটি নাম পাঠিয়েছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি। যার মধ্যে রয়েছে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক নরেশ চন্দ্র বাউড়ি সহ ইলামবাজার ও রাজনগরের দুজন শিক্ষক। দলই অনুব্রতর এই ‘গোঁসা’কে গুরুত্ব দিয়ে অসীমার পরিবর্তে নাম চেয়ে পাঠায়। উল্লেখ্য গত বিধানসভার এই অঞ্চল থেকে প্রার্থী করা হয়েছিল নরেশ চন্দ্র বাউড়িকে। কিন্তু এই একুশে তিনি টিকিট পাননি। এই নিয়ে কাঁদতেও দেখা গিয়েছিল নরেশকে। কিন্তু দুবরাজপুরের প্রকাশ্য সভায় বিধায়ক ও বর্তমান প্রার্থী দুজনকে পাশে বসিয়ে জনসভায় দলীয় প্রার্থীকে জেতানোর আহ্বানও জানান।

বীরভূম সহ বর্ধমানের একাধিক বিধানসভা নিয়ে মোট ২৪ টি কেন্দ্রের জন্য প্রার্থীর নাম পাঠান অনুব্রত। তার মধ্যে একটি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল হয় অনুব্রত সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই। তাই এই ইস্যুতে তিনি যে অসন্তুষ্ট সেটা তাঁর কথা থেকেই পরিষ্কার। অনুব্রত বলেন, ‘আমি জেলার যে ক’টা নাম পাঠিয়েছিলাম তার মধ্যে একটা বদল হয়েছে। আমি নাম পাঠানোর সময়ই দল কে বলেছিলাম প্রার্থী বদল করলে হেডেক আমার নেই। দায়িত্ব আমার নেই। দল যখন দুবরাজপুরে আমার পাঠানো নাম বদল করেছে তখন দলই বুঝবে।’ দুবরাজপুর কেন্দ্রে ফের প্রার্থী বদলের সম্ভাবনা প্রকট হয়ে উঠেছে। তবুও তাঁকে বদলানো হবে না বলেই আশা প্রকাশ করছেন বর্তমান প্রার্থী অসীমা ধীবর। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী নিজে প্রার্থী হিসেবে আমার নাম ঘোষণা করেছে। আর কেষ্ট দা বলেছে আমার পাশে আছে। প্রার্থী বদলের জন্য কেউ দাবি করেনি।’

ওই এলাকাতেও প্রার্থী নিয়ে তৃণমূলের একাংশের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে সেটাও বিলক্ষণ বুঝেছেন এবং জেলা তৃণমূল সভাপতি। তাঁর কাছেও প্রার্থী বদলের জন্য আবেদন করা হয়েছে। দুবরাজপুরের বাসিন্দা জেলার তৃণমূল সহ-সভাপতি মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘খয়রাশোল এবং দুবরাজপুর এলাকার বেশ কিছু অঞ্চলে অসীমা ধীবরকে নিয়ে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁরা জেলা সভাপতিকে জানিয়েছেন। দল এই বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছে।’