সিঙ্গুর-ভুলের পুনরাবৃত্তি নয়, ইস্তেহারে স্পষ্ট করল বামেরা

0

কলকাতা: ভুল থেকে শিক্ষা। একুশে ক্ষমতায় এলে সিঙ্গুর-ভুলে’র পুনরাবৃত্তি হবে না তা নির্বাচনী ইস্তাহারে স্পষ্ট করল বামফ্রন্ট। বৃহস্পতিবার বামফ্রন্ট নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করে। সেখানে পরিস্কার বলে দেওয়া হয় যে আগামি দিনে ক্ষমতায় এলে জমি অধিগ্রহণ নীতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে তারা। এমনকি ইস্তাহারে শিল্প, কৃষি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রমের মতো একাধিক বিষয়ের উপর বাড়তি গুরুত্বও দেওয়া হয়েছে। তাই একুশের ভোটে মানুষের ন্যায্য অধিকারগুলোকেই হাতিয়ার করতে চাইছে বিমান বসু, সূর্যকান্তরা।

উল্লেখ্য এক দশক আগে সিঙ্গুর – নন্দীগ্রামই পালাবাদলের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাংলার বুকে। সিঙ্গুরে শিল্প তৈরির নামে এক হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল বামেরা। বাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল চার ফসলি শালি জমি অধিগ্রহণের। তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে বামেদের এই নীতির প্রতিবাদ করেছিলেন। আর তাতেই বাজিমাত করেছিলেন বিরোধী নেত্রী। পতন হয়েছিল ৩৪ বছরের বাম জামানার। ক্ষমতা হারানোর পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য খোদ নিজে সিঙ্গুরে জোরপূর্বক জমি অধিগ্রহণ নীতিকে ‘ভুল’ বলে স্বীকারও করেছিলেন। জমি অধিগ্রহণের সেই নীতি ভুল ছিল বলে জানিয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। কিন্তু একুশে ক্ষমতায় এলে সেই ‘ঐতিহাসিক ভুলের’ পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চায়না বামেরা।

নির্বাচনী ইস্তেহারে শিল্প নীতি নিয়ে বামদের বক্তব্য, ‘ক্ষমতায় এলে শিল্প তৈরির ব্যাপারে জোর দেবে সরকার। তবে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকাভিত্তিতে সহমত তৈরি করে জমি অধিগ্রহণ করা হবে। অধিগৃহীত জমির জন্য পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে’। বামেদের ইস্তাহারে নরেন্দ্র মোদী সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতা করা হয়। বিকল্প হিসাবে বলা হয়, ‘অনেকে ভূমি সংস্কারে জমি পেয়েও, তাঁদেরকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমরা সেই জমি ফিরিয়ে দেব। কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা হবে’।

পাশপাশি ইস্তাহারে পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আলাদা দফতর চালু করার কথাও বলা হয়েছে। কারণ বামেদের অভিযোগ, লকডাউনের সময় ভিন রাজ্য থেকে আসা শ্রমিকদের জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা করেনি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। যার ফলে শ্রমিকরা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। তাই সেই সকল পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে টানতেই এই বিষয়েও বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বামেরা ক্ষমতায় এলে পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াবে।
ইস্তাহারে আরও জানানো হয়েছে, বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলি খোলার জন্য পদক্ষেপ করা হবে।

তবে কেন্দ্রের জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে বামেরা ইস্তাহারে বিশেষকিছু বলেনি। বরং বিকল্প শিক্ষানীতির কথা উল্লেখ করে তারা জানিয়েছে, ‘সরকার ক্ষমতায় এলে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক এবং বাধ্যতামূলক করা হবে। মাধ্যমিক সমতুল ছাত্রছাত্রীদের পারিবারিক আয়ের মাপকাঠিতে এককালীন অর্থ সাহায্য করা হবে’। বামেদের ইস্তাহারে উচ্চ শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন কোনও পদক্ষেপের কথা বলা হয়নি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কোনও বিকল্প প্রকল্পের কথা ইস্তাহারে জানায়নি বামেরা। তবে তারা বলেছে, ‘জনস্বাস্থ্যের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের। বিনামূল্যে সরকারি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্যসাথীর কোনও ধাঁধা নয়, প্রতিষেধকমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হবে। শিশু ও মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর হার হ্রাস করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে’।