“দিদি সত্যিটা কখনও চাপা থাকে না।” মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতেই কটাক্ষ নাড্ডার

0

নয়াদিল্লী: মুখ্যমন্ত্রীর ‘আহত’ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে বিরোধীদের কদর্য মন্তব্যে বঙ্গ রাজনীতি সরগরম। নন্দীগ্রামের ঘটনার পর দেশের বিভিন্ন শীর্ষ নেতারা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। সেইসময় রাজ্য বিজেপির নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহত হওয়ার ঘটনাকে ‘নাটক’ ব্যাখ্যা দিতে ব্যস্ত। এমনকি সৌজন্যতার খাতিরে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে আসেনি কোনো বার্তাও। আশ্চর্যজনক ভাবে চুপ ছিলেন তারা। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে অবস্থা সামান্য উন্নত হলে মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেতেই চেনা ছন্দে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জিপি নাড্ডা। টুইট করে নাড্ডার বেনজির মন্তব্য, “দিদি সত্যিটা কখনও চাপা থাকে না।”

নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী প্রচারে গিয়ে আহত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই প্রসঙ্গে কটাক্ষের সুরে নাড্ডার বক্তব্য, ,”ওই ঘটনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও কোনও বিবৃতি দেয়নি। কিন্তু মমতার নিজের বয়ানই বদলে গিয়েছে। ঘটনার পরে তিনি একরকম বলছিলেন, আর হাসপাতালে শুয়ে তিনি অন্য কথা বলছেন। আসলে সত্যিটা কখনও চাপা থাকে না। তৃণমূল বাংলায় সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলার মানুষ ভীষণভাবে রাজনীতি সচেতন। তাই তৃণমূল সিমপ্যাথি ভোট পাবে না।” তবে, কটাক্ষ করলেও বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি মুখ্যমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।

শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেই নাকি বাড়ি থেকে চিকিৎসা করাতে চেয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে হুইল চেয়ারে করে হাসপাতাল থেকে বেরোতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। পায়ে ছিল বিশের ‘চটি’। শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। শোনা যাচ্ছে আগামি সপ্তাহ থেকেই ফের জেলাসফরে নামবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্লোগান উঠছে, ভাঙা পায়েই খেলা হবে। যদিও বাড়ি গেলেও মুখ্যমন্ত্রীকে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। সেইমতো ডাক্তার কিছু নির্দেশিকা জারি করেছে। প্রসঙ্গত, বুধবার নন্দীগ্রামে প্রচারে গিয়ে গাড়ির দরজার আঘাতে বাঁ পায়ে গুরুতর চোট পান মুখ্যমন্ত্রী। ওইদিনিই তাঁকে কলকাতার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

৯ সদস্যের মেডিক্যাল বোর্ড মুখ্যমন্ত্রীর চিকিৎসা শুরু করে। দু’দিন পর শুক্রবার হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর উপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা হয়েছে। এই দাবিতে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগও দায়ের করে এসেছে রাজ্যের শাসক শিবির। পালটা দিয়েছে বিজেপিও। তাঁদের দাবি, তৃণমূল গুজব ছড়িয়ে তাঁদের বদনাম করার চেষ্টা করছে। গোটা ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আনার দাবিতে কমিশনে দরবার করেছে গেরুয়া শিবিরও। কিন্তু এসবের মধ্যেও আশ্চর্যজনকভাবে মমতার আহত হওয়া নিয়ে এতদিন নীরব ছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তো বটেই বিজেপি সভাপতি নাড্ডাও এর আগে আঘাত পাওয়া নিয়ে মুখ খোলেননি।