বড় চমক তৃণমূলের, মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার ইচ্ছা নিয়েই তৃণমূলে যোগ দিলেন যশবন্থ সিনহা

0

কলকাতা : কথায় আছে, স্যাকরার ঠুকঠাক কমারের এক ঘা। একুশের হাই ভোল্টেজ নির্বাচনের মুখে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূলে যোগ দিলেন বাজপায়ী জামানার অর্থমন্ত্রী তথা একসময়ের বিজেপির প্রথম সারির নেতা যশবন্ত সিনহা। তাও আবার তৃণমূলের ২৯১ আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর। তাই নির্বাচনে যশবন্তের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ভোটের উত্তাপকে অনেকটা বাড়িয়ে দিলে। তৃণমূলে যোগ দিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন তিনি। এমনিতেই মমতা ও যশবন্তের সুসম্পর্ক সর্বজনবিদিত।

প্রসঙ্গত, বিগত বছরগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থক হিসেবেই যশবন্তকে দেখা গিয়েছে। উনিশের লোকসভা নির্বাচনেও মমতার হয়ে প্রচার করেছিলেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন শাসক দলের ডাকা ব্রিগেডের জনসভাতেও। সেই যশবন্ত সিনহাই শনিবার তৃণমূল ভবনে ডেরেক ও ব্রায়েন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়দের উপস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নেন। শোনা যাচ্ছে একুশের ভোটে প্রচারক হিসেবেই যশবন্ত সিনহাকেই কাজে লাগাতে চলছে তৃণমূল। বিশেষ করে অবাঙালী ভোট টানতেই তৃণমূলের এই মাস্টার স্ট্রোক। শোনা যাচ্ছে, শনিবার সকালেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে ৪৫ মিনিট ফোনালপের পরই তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেন যশবন্ত।

শনিবার যশবন্ত সিনহা মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “মমতা শুরু থেকেই ফাইটার। কান্দাহার বিমান অপহরণের সময় নিজে পণবন্দি হিসেবে যেতে চেয়েছিলেন। জঙ্গিদের হাত থেকে বন্দিদের ছাড়ানোর জন্য নিজে আত্মত্যাগ করতে রাজি ছিলেন মমতা। আমি নিশ্চিত বাংলার নির্বাচনে তৃণমূল বড় সাফল্য পাবে। বাংলার এই ভোট বাংলার পাশাপাশি গোটা দেশের ভবিষ্যতের জন্যও ভীষণ জরুরি। বাংলা থেকেই ২০২৪-এ পরিবর্তন হবে দিল্লিতে।”

মমতার সুরেই যশবন্ত বললেন, “অটলজির বিজেপি আর আজকের বিজেপির মধ্যে বিস্তর ফারাক। অটলজি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতেন। এখনকার সরকার সবাইকে দমন করার নীতিতে বিশ্বাস রাখে। অটলজির আমলে আমরা দেশজুড়ে মহাজোট গঠন করেছিলাম। অথচ, আজকের বিজেপির পাশে কেউ নেই। তার কারণ এই বিজেপি সঙ্গে থাকার যোগ্য নয়। এই লড়াই শুধু ভোটের বা রাজনীতির লড়াই নয়। এটা দেশের গণতন্ত্রের লড়াই, দেশের অস্মিতা বাঁচানোর লড়াই।”

কিন্তু জীবনের শেষ বয়সে এসে কেন হঠাত তৃণমূলে যোগ? ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন তিনি। বললেন, “আজকের ঘটনায় হয়তো আপনারা চমকে গিয়েছেন। কেন এই বয়সে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলাম? আসলে দেশ এই মুহূর্তে এক অদ্ভুদ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সমস্ত স্বশাসিত সংস্থা আজ বিপদের মুখে। এর মধ্যে রয়েছে বিচারব্যবস্থাও। দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। অথচ, কারও কোনও হেলদোল নেই। আজ এই দেশে কৃষক, মজুর সকলেই ত্রস্ত। স্বাস্থ্য, শিক্ষাক্ষেত্রে চরম দুর্দিন চলছে। তাতেও উদাসীন সরকার। এখনকার কেন্দ্রীয় সরকারের একটাই লক্ষ্য, ভোটে জেতা।”

যশবন্তের তৃণমূল যোগ প্রসঙ্গে সুব্রত বলেন, “যশবন্ত সিনহার মতো মানুষ এসে আমাদের ধন্য করলেন। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের পথ প্রদর্শক হিসেবে থাকবেন। সারা ভারতবর্ষে তিনি তৃণমূলের আদর্শ প্রচার করবেন। তাঁর নেতৃত্বে গোটা দেশে তৃণমূলের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চক্রান্তের শিকার না হলে, আজ তিনি নিজেই উপস্থিত থাকতেন। আমরা মমতা এবং যশবন্তের যৌথ পথপ্রদর্শনে এগিয়ে যাব।”

প্রসঙ্গত ২০১৪ সালে মোদীর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বাজপায়ীর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্তকে একপ্রকার রাজনৈতিক সন্ন্যাসে পাঠিয়ে দেন। তাই ২০১৯ এ লোকসভা নির্বাচনে মোদী – শাহ জুটির পতন করতে কোমরবেঁধে নামেন। উনিশের আগে মমতার হয়ে রাজ্যে ভোটপ্রচার করেছেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, “২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চাই৷’’