বঙ্গ নির্বাচনে প্রার্থী দেবে না JMM! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পূর্ণ সমর্থনের বার্তা হেমন্ত সোরেনের

0

কলকাতা: উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা, তেজস্বী যাদবের আরজেডির পর এবার হেমন্থ সোরেনের জেএমএম’ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে আসন্ন নির্বাচনে বাংলার একটি আসনেও প্রার্থী না দেওয়ার কথা ঘোষণা করল। বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতেই তৃণমূলকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন হেমন্ত সোরেন। যা ভোটের আগে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরে। মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই নাকি হেমন্ত সোরেন পশ্চিমবঙ্গে না লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।

শুক্রবার হেমন্ত সোরেন ঘোষণা করেন,”মমতা দিদি আমাদের ফোন করে এবং চিঠি লিখে সমর্থন প্রার্থনা করেছেন। অনেক আলোচনার পর আমরা বাংলার ভোটে তৃণমূলকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের দল বাংলায় কোনও প্রার্থী দেবে না। দিদি ওখানে সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে লড়ছেন। সেই লড়াইয়ে তৃণমূলকে আমরা সমর্থন করব।” প্রসঙ্গত একুশের নির্বাচনে রাজ্যের ৪০ টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল ঝাড়খণ্ডের শাসক দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা। সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন খোদ নিজে এসে রাজ্যে সভা করেছিলেন। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে রাজ্যে এসে তিনি পরোক্ষে মমতাকে তোপও দাগেন।

বলে দেন, ”বাংলার আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে জেএমএম লড়াই করবে। আদিবাসীদের এখন চাক্কিতে পেষা হচ্ছে। নতুন নতুন আইন তৈরি হচ্ছে। আমি বারেবারে এই বাংলায় আসব। আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার জন্য সংবিধানে উল্লিখিত পঞ্চম তফসিল তৈরি করতে হবে, আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্য আলাদা কেন্দ্রীয় পর্ষদ গড়তে হবে এখানে।” হেমন্ত সোরেনের এই সিদ্ধান্ত একেবারেই ভালোভাবে নেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আগে বাংলা সামলাও। আমি তো ঝাড়খণ্ডের বাঙালি ভোট চাইতে যাই না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কথাতেই নাকি নড়েচড়ে বসেন জেএমএম সুপ্রিমো শিবু সোরেন । তিনিই ছেলে তথা ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে বাংলার ভোটযুদ্ধে না নেমে মমতাকে সমর্থন করার পরামর্শ দেন।

তেমনি আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেমন্ত সোরেনের এই সমর্থন তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ঝাড়খন্ডে হেমন্ত সোরেনের সরকার চলছে কংগ্রেসের সমর্থনে। অন্যদিকে কংগ্রেস ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুই বিরোধী পক্ষ। শুধু হেমন্ত সোরেন নয়। এর আগে তেজস্বী যাদব নিজে এসে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। দেখা করে তেজস্বী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে পূর্ণ সমর্থন জানান। এমনকি শিবসেনা থেকে শুরু করে কেজরিওয়াল, শারদ পাওয়ার একযোগে বিজেপির বিরুদ্ধে শক্তিশালী দল হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন।