ঘাসফুলে যোগ দিয়েই দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যশবন্ত সিনহা

0

কলকাতা: কয়েকদিন আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখার ইচ্ছা নিয়ে তৃণমূল ভবন থেকে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন বাজপায়ী জামানার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী যশবন্ত সিনহা। যোগদানের একদিনের ব্যবধানেই বড় দায়িত্ব পেলেন তিনি। দলের সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত করা হল প্রাক্তন BJP নেতাকে। সেই সঙ্গে ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবেও তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছে।

তৃণমূলে যোগ দিয়ে যশবন্ত সিনহা বলেছিলেন, ‘বাংলাই আগামীদিনের পথপ্রদর্শক হবে। এই বিধানসভা নির্বাচন কেবলমাত্র বাংলার জন্যই নয়, ২০২৪ সালের সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যেও বড় ভূমিকা পালন করবে। তাই দূর থেকে নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকতেই তৃণমূলে যোগদান। আমার সীমিত ক্ষমতা দিয়ে তাঁকে বিজয়ী করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করব।’ মোদী-শাহের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রবীণ এই নেতা বলেন, ‘মোদী-শাহের রাজনীতি মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।’ পাশাপাশি অটল বিহারী বাজপেয়ী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে যশবন্ত সিনহা বলেছিলেন, ‘বাজপেয়ী জমানার বিজেপি আর এখনকার বিজেপির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। বাজপেয়ী কখনও ভেদাভেদ করতেন না। কিন্তু, মোদী সরকার স্বেচ্ছাসার চালাচ্ছে। এদের লক্ষ্য যেন তেন প্রকারে ভোটে জেতা।’

শনিবার যশবন্ত সিনহা মমতার পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, “মমতা শুরু থেকেই ফাইটার। কান্দাহার বিমান অপহরণের সময় নিজে পণবন্দি হিসেবে যেতে চেয়েছিলেন। জঙ্গিদের হাত থেকে বন্দিদের ছাড়ানোর জন্য নিজে আত্মত্যাগ করতে রাজি ছিলেন মমতা। আমি নিশ্চিত বাংলার নির্বাচনে তৃণমূল বড় সাফল্য পাবে। বাংলার এই ভোট বাংলার পাশাপাশি গোটা দেশের ভবিষ্যতের জন্যও ভীষণ জরুরি। বাংলা থেকেই ২০২৪-এ পরিবর্তন হবে দিল্লিতে।”

মমতার সুরেই যশবন্ত বললেন, “অটলজির বিজেপি আর আজকের বিজেপির মধ্যে বিস্তর ফারাক। অটলজি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতেন। এখনকার সরকার সবাইকে দমন করার নীতিতে বিশ্বাস রাখে। অটলজির আমলে আমরা দেশজুড়ে মহাজোট গঠন করেছিলাম। অথচ, আজকের বিজেপির পাশে কেউ নেই। তার কারণ এই বিজেপি সঙ্গে থাকার যোগ্য নয়। এই লড়াই শুধু ভোটের বা রাজনীতির লড়াই নয়। এটা দেশের গণতন্ত্রের লড়াই, দেশের অস্মিতা বাঁচানোর লড়াই।”

কিন্তু জীবনের শেষ বয়সে এসে কেন হঠাত তৃণমূলে যোগ? ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন তিনি। বললেন, “আজকের ঘটনায় হয়তো আপনারা চমকে গিয়েছেন। কেন এই বয়সে সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরলাম? আসলে দেশ এই মুহূর্তে এক অদ্ভুদ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সমস্ত স্বশাসিত সংস্থা আজ বিপদের মুখে। এর মধ্যে রয়েছে বিচারব্যবস্থাও। দেশে গণতন্ত্র বিপন্ন। অথচ, কারও কোনও হেলদোল নেই। আজ এই দেশে কৃষক, মজুর সকলেই ত্রস্ত। স্বাস্থ্য, শিক্ষাক্ষেত্রে চরম দুর্দিন চলছে। তাতেও উদাসীন সরকার। এখনকার কেন্দ্রীয় সরকারের একটাই লক্ষ্য, ভোটে জেতা।”