নন্দীগ্রামে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বৈধ নয়! শুভেন্দুকে ‘শিক্ষা’ দিতে আসরে শাসক দল

0

কাঁথি : যত কাণ্ড নন্দীগ্রামে। কয়েকদিন আগেই নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনয়ন পত্র বাতিল করতে উঠেপড়ে লেগেছিল গেরুয়া শিবির। তৃণমূল ত্যাগী নেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ এনেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ৬ টি মামলার কথা মনোনয়ন পত্রে উল্লেখ করেননি। যা নিয়ম বিরোধী। কিন্তু কমিশন সেই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেয়। ভোটের আগে বড়সড় আইনি ধাক্কা খায় বিজেপির দলবদলু শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দেয়, এক সরকারি কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিল সিবিআই যার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার শুভেন্দুকে পালটা দিল ঘাসফুল শিবির। সম্প্রতি শুভেন্দু নিজেকে ‘ভূমিপুত্র’ প্রমাণ করতে নন্দীগ্রামের ভোটার হয়েছেন।

ভোটের মুখে একেই ঢাল করেছে ঘাসফুলের শিবির। শুভেন্দুকে নন্দীগ্রামের ভোট তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে শাসক দল। ভোটের মুখে ভোটার তালিকায় শুভেন্দুর নাম লেখানো বৈধ নয় বলে অভিযোগ তৃণমূলের। সেই দাবিতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠিও লিখেছে তারা। ঘাসফুল শিবিরের অভিযোগ, হলদিয়া এবং নন্দীগ্রাম- এই দুই এলাকার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে বিজেপি প্রার্থীর। কিন্তু মনোনয়ন দাখিলের সময় নিজেকে নন্দীগ্রামের বাসিন্দা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন শুভেন্দু। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয় নাগরিক হলেই রাজ্য তথা দেশের যেকোনো কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়া যায়। সেক্ষেত্রে শুভেন্দু হলদিয়ার বাসিন্দা হয়ে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়াতে কোনো আপত্তি নেই।

তবে তথ্য গোপন করা, ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে শুভেন্দুর ভোটার তালিকা থেকে নাম বাতিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের দেওয়া চিঠি অনুযায়ী, শুভেন্দু অবৈধভাবে নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলেছেন। তিনি নিজেকে নন্দনায়কবর গ্রামের বাসিন্দা বলে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এলাকার বিএলও বিজলি গিরি রাও জানিয়েছিলেন, গত ছ’মাস নন্দনায়কবর গ্রামের নির্দিষ্ট বাড়িতে দেখা যায়নি শুভেন্দুকে। তাই তাঁকে ওই এলাকার বাসিন্দা হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে্ জানিয়েছিলেন বিজলি গিরি রাও। এমনকী, প্রয়োজনীয় দু’টি সরকারি নথিও তিনি দিতে পারেননি বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন বিএলও। সেই নথিকে হাতিয়ার করে এবার কমিশনের দ্বারস্থ তৃণমূল।