হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টাগ্রামে সাময়িক সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণের পালটা আক্রমণ শাসক বিরোধী দুই শিশিরের

0

কলকাতা : শুক্রবার রাতে হঠাৎ কিছুক্ষণের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ-ইনস্টাগ্রামে সমস্যা দেখা দেয়। ম্যাসেজ দেওয়া নেওয়া থামকে যায় সাময়িক সময়ের জন্য। শনিবার একুশের মহারণে শাসক ও বিরোধী উভয় দলের শীর্ষ নেতৃত্বেরা বক্তৃতায় সেই প্রসঙ্গই টেনে এনে একে অপরকে আক্রমণের পালটা আক্রমণ করলেন। খড়্গপুরের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী যেমন বাংলায় দিদির আমলে ‘হোয়াটঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রাম ডাউন’ এর সঙ্গে ‘বাংলা ডাউন’কে মিলিয়ে দিলেন। ঠিক তেমনি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের সভা থেকে খড়্গপুরের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পালটা দিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, “হোয়াটসঅ্যাপ নিয়ে খুব চিন্তা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর। কারণ বিজেপির লড়াই শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায়।”

প্রসঙ্গত খড়্গপুরে নির্বাচনী প্রচারে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামে সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খোঁচা দেন মোদি। বলেন, “যেভাবে হোয়াটঅ্যাপ আর ইনস্টাগ্রাম ডাউন হয়ে গিয়েছিল, ওভাবেই দিদির আমলে বাংলাও ডাউন হয়ে গিয়েছে, শিক্ষা, উন্নয়ন সমস্ত দিক থেকে।” দেরি না করে দাসপুরের সভা থেকে তারই জবাব দিলেন অভিষেক। উল্লেখ্য এদিন নির্বাচনী প্রচারের কারণে পশ্চিম মেদিনীপুরে একাধিক সভা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুপুরের সভায় মোদির এই আক্রমণের পালটা অভিষেক বলেন, “সামান্য কিছু সময় সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর কাছে সেই খবর রয়েছে। কিন্তু লকডাউনে, আমফানের সময় কত মানুষ কষ্টে ছিলেন তা তিনি দেখতে পাননি। কারণ বিজেপির লড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তৃণমূল মানুষের মধ্যে মিশে গিয়ে তাঁদের জন্য কাজ করে।”

শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। রাজনৈতিক উত্তাপ ছ্যাঁকা দিচ্ছে সাধারন মানুষকে। কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছেন শাসক বিরোধী দুই শিবির। তৃণমূল সুপ্রীমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুইল চেয়ারে করেই প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির ভরসা কেন্দ্র নেতৃত্ব। তাই ঘনঘন বাংলা মোদী শাহ নাড্ডার আনাগোনা লেগেই রয়েছে। চব্বিশ ঘন্টার ব্যবধানে দুটি সভা করছেন মোদী। বৃহস্পতিবার পুরুলিয়া ও শনিবার খড়্গপুরে। এদিন দুপুরে দাসপুরে সভা করেন তিনি। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে জে পি নাড্ডা, সকলকেই তুলোধোনা করেন। নিয়মিত বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বঙ্গসফরকে কটাক্ষ করে বলেন, “মোদি, অমিত শাহরা তো বাংলায় ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করছে। কিন্তু ওরা জানে না এসব করে কোনও লাভ হবে না। বিজেপিকে এপ্রিল ফুল করবে বাংলার মানুষ।”