আবেগের নামে অন্ধত্ব: সচিনের আউট নিয়ে মৃত্যুর হুমকি আম্পায়ার ও প্রাক্তন ইংল্যান্ড অলরাউন্ডারকে

0

নয়াদিল্লি: ক্রীড়াপ্রেমী দেশ ভারতে ক্রিকেট প্রায় একটি ধর্মের মতো, আর এই ধর্মের পূজারী ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার সচিন রমেশ তেন্ডুলকর। যত বড়োই বা ভালো ক্রিকেটার ভারতের হয়ে খেলুক না কেন সচিনের জায়গা আলাদাই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে। আর এবার সেই সচিনের জন্য অন্য ক্রিকেটারকে মৃত্যুর হুমকিও পর্যন্ত দিতে ছাড়েন না তার অনুগামীরা। সচিনকে ঘিরে আবেগ এবং অন্ধত্ব যে কতখানি ক্রিকেটপ্রেমীদের তা আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অলরাউন্ডার টিম ব্রেসনান প্রকাশ করেছিলেন যে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যে ২০১১ সালের চার-টেস্টের সিরিজ চলাকালীন নব্বইয়ের ঘরে সচিন তেন্ডুলকরকে আউট করার কথা। সেই কারণেই অস্ট্রেলিয়ান আম্পায়ার রড টাকার মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলেন।

বলা বাহুল্য, ওভালের চতুর্থ টেস্টে সচিন নিজের ৯৯ তম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করে ফেলেছিলেন এবং ১০০ তম সেঞ্চুরির রেকর্ড হওয়ার মুখে আটকে ছিলেন বেশ কিছুদিন। প্রথম তিনটি টেস্টে মাত্র একটি অর্ধশতক করেছিলেন তিনি। ভারত ০-৩ ব্যবধানে হারছিল। অন্যদিকে সচিন অনুগামীরা তাকিয়েছিল তাঁর ১০০ তম সেঞ্চুরির দিকে। সচিন যখন ৯১ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন ব্রেসনানের একটি ডেলিভারি তাঁর প্যাডে এসে লাগে। আউটের জন্য আবেদন করতে থাকে ইংল্যান্ড দল। বলটি লেগ স্টাম্প মিস করছে বলে মনে হলেও আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে দেন। আর যেহেতু বিসিসিআই তখনও ডিআরএসের (ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম) পক্ষে ছিল না, তাই ভারত সচিনের আউটে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম হয়নি।

ব্রেসনান বলেন, “আমরা সিরিজটা জিতেছিলাম এবং বিশ্বে এক নম্বর দল হয়েছিলাম। এরপরে যা ঘটেছিল তা চরম ভয়াবহ।” কয়েক মাস ধরে ব্রেসনান এবং আম্পায়ার টাকার মানুষের ক্রোধের সম্মুখীন হয়েছিলেন। ব্রেসনানের আউট করা ও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়ে তাদের নামে লাগাতার চিঠি আসত। বিষয়টা এতটাই ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে টাকার অবশেষে সুরক্ষিত বোধ করার জন্য পুলিশ সুরক্ষার ব্যবস্থা করে।

ব্রেসনান বলেন, “আমরা দুজনেই মৃত্যুর হুমকি পেয়েছিলাম, আমি এবং ওই আম্পায়ার, আমরা এই ঘটনার অনেক দিন পরেও মৃত্যুর হুমকি পেয়েছি। আমি সেগুলি টুইটারে পেয়েছি এবং টাকারকে তাঁর বাড়ির ঠিকানায় চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে লেখা থাকত, ‘আপনি তাকে আউট করার সাহস কী করে পান? লেগ স্টাম্প মিস করছিল।’ আমি কয়েক মাস পরে টাকারের সাথে দেখা হওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here