এটিকে-মোহনবাগান কেন যোগ দিলেন? মন খুলে নিজের কথা শেয়ার করলেন সন্দেশ ঝিঙ্গান

0

পানাজি, গোয়া : গত কয়েক বছরে ভারতীয় ফুটবলের সবথেকে বড় দলবদলের ঘটনা ঘটিয়েছে এটিকে-মোহনবাগান। ১.৬৬ কোটি টাকায় দেশের সেরা ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গানকে তুলে নিয়ে সকলকে চমকে দিয়েছিল নয়া সত্ত্বাবিশিষ্ট এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু বাকি ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেড়ে কেন এটিকে-মোহনবাগানেই যোগ দিলেন সন্দেশ? এই প্রশ্নটি বারবার উঠে আসছে।

এই মুহুর্তে দলের সাথে গোয়ার প্রাক-মরশুম শিবিরে রয়েছেন সন্দেশ। জনপ্রিয় ইংরেজি সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্দেশ ঝিঙ্গান জানিয়েছেন, সিদ্ধান্তটি নেওয়া সহজ ছিল না। তিনি বলেছেন, “আমি আমার সকল কোচের কথা শুনেছিলাম, যা আরও কঠিন হয়ে উঠেছিল এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে। কিন্তু শেষ অবধি আমি আমার মনের কথা শুনে এটিকে-মোহনবাগানকে হ্যাঁ জানিয়েছি।”

এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সন্দেশ আলোচনা করেছিলেন ক্লাবের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা এবং কোচ আন্তোনিও হাবাস লোপেজের সাথে। তাদের তরফ থেকে পরিকল্পনা শুনেই পছন্দ হয়ে গিয়েছিল সন্দেশের।

এটিকে-মোহনবাগান নিয়ে সন্দেশ বলেছেন, “এটিকে-মোহনবাগানের দুরদৃষ্টিমূলক পরিকল্পনা বড়ই লোভনীয়। যখন তাদের প্রকল্পের বিষয়ে শুনেছি, আমি সেটির অংশ হতে চেয়েছিলাম। এটি একটি দুর্দান্ত প্রকল্প আর এটির পিছনে যেভাবে তারা লেগে রয়েছে তা অসাধারণ। এটিই এটিকে-মোহনবাগানকে একটি চ্যাম্পিয়ন স্কোয়াড তৈরি করতে সাহায্য করেছে। তাদের কাছে দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় রয়েছে এবং এমন একজন কোচ রয়েছে যিনি জানেন খেতাব কিভাবে জিততে হয়। হাবাস আমার খেলা বোঝেন এবং আমি নিশ্চিত যে আমি ওনার অধীনে আরও উন্নতি করব।”

দীর্ঘসময় কেরালা ব্লাস্টার্সে থেকে সমর্থকদের চোখের মনি হয়ে উঠেছিলেন পাঞ্জাবের এই ডিফেন্ডার। কিন্তু চলতি বছরে তার বিদায়ে অখুশি ছিলেন কেরালার সমর্থকরা। সন্দেশের প্রতি শ্রদ্ধায় কেরালা ব্লাস্টার্স তার জার্সি নম্বর ২১ কে অবসৃত ঘোষণা করেছে। কিন্তু কেরালার প্রতি নিজের আবেগ আবারও দেখালেন সন্দেশ।

সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা আলাদা হয়েছি দুই পক্ষের সম্মতিতেই। যদি শুধু টাকার জন্যই আমি কেরালা ছাড়তাম, তাহলে আমি অনেক আগেই ছেড়ে দিতে পারতাম যখন আমার কাছে আরও ভালো অফার এসেছিল। আমি এই ক্লাবের প্রতি অনুগত ছিলাম কারণ আমি তাদের প্রকল্প, ক্লাব ও তার সমর্থকদের ভালোবেসেছি। আমি এই ক্লাবকে আমার সবকিছু দিয়েছি। সেলাই নিয়ে আমি খেলেছি, কনকাশন আর পেশির ব্যাথা নিয়েও খেলেছি। কেরালা ব্লাস্টার্স সর্বদাই আমার হৃদয়ে থাকবে, কেউ এটিকে কেড়ে নিতে পারবে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here