রেফারির বদান্যতায় সহজ ম্যাচ কঠিনভাবে জিতল এটিকে-মোহনবাগান, শেষ মুহুর্তে ম্যাজিক রয় কৃষ্ণার

0

এটিকে-মোহনবাগান এফসি – ১ (রয় কৃষ্ণা)

উড়িষ্যা এফসি – ০

মারগাঁও, গোয়া : শুধু আইএসএল বলা ভুল, আমাদের ভারতীয় ফুটবলে একাধিকবার দেখা গিয়েছে, রেফারিদের চরম ভুলে বহু মূল্যবান পয়েন্ট হারিয়েছে বড় থেকে ছোট সব দলগুলি। এবং এই ধরণের ভুল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছু ভারতীয় রেফারিদের ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে। কিন্তু আজ আবারও এক ভারতীয় রেফারির ভুলে পয়েন্ট হারাতে চলেছিল এটিকে-মোহনবাগান। কিন্তু শেষ মুহুর্তের ম্যাজিকে রয় কৃষ্ণা জিতিয়ে দিলেন এটিকে-মোহনবাগানকে।

শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণ শুরু করেছিল। ডেভিড উইলিয়ামস এবং এডু গার্সিয়া না থাকায় একাধিকবার একা পড়ে যেতে হচ্ছিল রয় কৃষ্ণাকে, পাশে মনবীর সিং থাকলেও খুব একটা সুবিধে হচ্ছিল না। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাকে উড়িষ্যা এফসি আক্রমণে উঠলেও সবুজ-মেরুণের কড়া রক্ষণের সামনে পেরে উঠতে পারেনি। যদিও ৩৫ মিনিটে কর্নার থেকে উড়িষ্যা এফসির জেকব ফাঁকা বল পেলেও হেডে বাইরে মারেন। প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থাতেই শেষ হয়।

এরপর যত নাটক শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৯ মিনিটে প্রবীর দাসকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন হেনড্রি অ্যান্টোন্যায়। কিন্তু রেফারি বক্সের বাইরে ফ্রি কিকের নির্দেশ দেন, যদিও রিপ্লেতে স্পষ্ট বোঝা গিয়েছিল, বক্সের মধ্যেই ফাউল হয়েছিলেন প্রবীর দাস। ডেফিনিট একটি পেনাল্টি থেকে বঞ্চিত হয় এটিকে-মোহনবাগান। এরপর ৫৬ মিনিটে উড়িষ্যা এফসির কোল অ্যালেকজান্ডার নিজের গোলেই বল ঢুকিয়ে দিলেও সেই গোল বাতিল করেন রেফারি, কারণ সেখানে মনবীর সিং নাকি হ্যান্ডবল করেছিলেন। যদিও রিপ্লেতে দেখা গিয়েছিল, একেবারে মাইক্রোস্কোপ নিয়ে এলে তবে সেই হ্যান্ডবল সম্বন্ধে জাজমেন্ট দেওয়া যায়।

তবে দ্বিতীয়ার্ধে তেড়ে ফুঁড়ে আক্রমণে নেমেছিল এটিকে-মোহনবাগানের খেলোয়াড়েরা। পরিবর্ত হিসেবে ব্র্যাড ইনম্যান নেমে বেশ কয়েকবার উড়িষ্যার ডিফেন্সে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু বারংবার অধিনায়ক স্টিভেন টেলরের বুদ্ধিদীপ্ত ডিফেন্ডিংয়ে বেঁচে যায় উড়িষ্যা। এদিকে উড়িষ্যা এফসি কাউন্টার অ্যাটাকে গেলেও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। এক সময় মনে হয়েছিল, ম্যাচ ড্র হতে চলেছে। কিন্তু ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের শেষ মিনিটে গোল করে এটিকে-মোহনবাগানকে বাঁচিয়ে দেন তাদের মসিহা রয় কৃষ্ণা। সেট পিস থেকে তিরির ভাসানো বল পেয়ে সন্দেশ ঝিঙ্গান বক্সে বল বাড়ালে সেটিকে হেড করে দেন রয় কৃষ্ণা। শেষ অবধি জয় লাভ করল হাবাসের ব্রিগেড।