বঙ্গব্রিগেডেই সূর্যোদয় ইস্টবেঙ্গলের, শক্তিশালী জামসেদপুরকে হারিয়ে এল পজিটিভ-নেগেটিভের হিসেব

0

পানাজি, গোয়া : ফতোরদা স্টেডিয়ামে এলেই এসসি ইস্টবেঙ্গলের খেলা খোলে, আর তার প্রমাণ আবারও মিলল গতকাল। বিকেলের পড়ন্ত রোদে শক্তিশালী জামসেদপুরকে হারিয়ে নতুন করে সূর্যোদয় উঠল এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিশ্বে। আর এই সূর্যোদয় এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় কৃতিত্ব পাওয়া উচিত বঙ্গব্রিগেডকে।

এদিনের ম্যাচে ছয় দেশীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে পাঁচজনই বাঙালি। শেষ কবে এমন নজির দেখা গিয়েছে তা বলা মুশকিল, তবে মনিপুরি বা পাঞ্জাবিদের ভিড়ে বাঙালি ফুটবলারদের নিয়েও ম্যাচ জেতা যায়, তা দেখিয়ে দিল এসসি ইস্টবেঙ্গল। এই ম্যাচ থেকে বেশ কিছু পজিটিভ ও নেগেটিভ নজরে এসেছে। এক নজরে তা দেখে নেওয়া যাক।

পজিটিভ :

রাজু গায়কোয়াড় – চোট সারিয়ে ফিরে এসে অসাধারণ একটি পারফর্মেন্স দিলেন রাজু। ইস্টবেঙ্গলের চির পরিচিত ভঙ্গুর ডিফেন্সকে ভরসা দিয়ে গেলেন রাজু। আর তাঁর দুর্দান্ত লং থ্রোগুলি হার মানাবে সমস্ত ফ্রিকিক বা কর্নার কিককেও। সব মিলিয়ে রাজুর উপস্থিতিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে লাল-হলুদের সংসার।

মাটি স্টেইনম্যান – তথাকথিত সেন্ট্রাল মিডফিল্ড থেকে এদিন কিছুটা উপরের দিকে উঠছিলেন জার্মান এই ফুটবলার। সেটপিসের ক্ষেত্রে বারবার টার্গেট হচ্ছিলেন তিনি। নিজের উচ্চতা ও মাথাকে ব্যবহার করে ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যে গোলটি করলেন, তাতে বোঝা যায় তাঁর গোল করার ক্ষমতা বেশ ভালো। এছাড়া মাঝমাঠে মন খুলে খেলে গিয়েছেন তিনি।

নারায়ণ দাস – রাইট উইংব্যাকে ভরসার নাম হয়ে উঠছেন নারায়ণ। যেভাবে ক্রমাগত উঠে এসে ক্রসগুলি বাড়িয়ে চলেছিলেন জামসেদপুরের ডিফেন্সে, তাতে পজিটিভ একজন স্ট্রাইকার এলে ফলাফল আরও ভালো হতে পারত ইস্টবেঙ্গলের জন্য। এছাড়া নিজেও আক্রমণে উঠে এসে রেহনেশকে বিব্রত করছিলেন নারায়ণ।

সৌরভ দাস – তরুণ এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার নিজে প্রথম ম্যাচেই একেবারে জান লড়িয়ে খেললেন। সারা মাঠ জুড়ে বিচরণ করলেন, প্রতিপক্ষের আক্রমণকে বারবার ভেঙে দিচ্ছিলেন, প্রচুর ওয়ার্কলোড নিচ্ছিলেন সৌরভ। প্রচন্ড পরিশ্রম করে নিজের জায়গা তৈরি করার চেষ্টা করছেন সৌরভ।

নেগেটিভ :

ড্যানি ফক্স – ডিফেন্সে রাজু ও সার্থক বেশ ভালো কার্যকারিতা দেখালেও সেভাবে ঝলক দেখাতে পারেননি লাল-হলুদ অধিনায়ক। অত্যন্ত সাধারণ মানের ফুটবল খেলেছেন এদিন। বেশ কয়েকবার ভালস্কিসকে অ্যালাউ করছিলেন নিজেদের বক্সে, যা খুবই বিপজ্জনক হতে পারত।

সুব্রত পাল – সারা ম্যাচ জুড়ে ভালো খেললেও দেবজিত মজুমদারের বিকল্প হওয়ার মত বিশেষ কিছু দেখাতে পারেননি সুব্রত। যে বলগুলি গ্রিপ করার কথা, সেগুলিকে ফিস্ট করে বিপদ আরও বাড়াচ্ছিলেন স্পাইডারম্যান। যদিও শেষ মুহুর্তে দুর্দান্ত রিফ্লেক্স সেভ দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বডি শেপ ও বল অ্যাডজাস্টমেন্ট নিয়ে আরও কাজ করতে হবে সুব্রতকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here