শোকজ ইস্যু নিয়ে দিল্লি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন প্রধানের টিপ্পনিকে যোগ্য জবাব দিলেন রবি ফাউলার

0

পানাজি, গোয়া : সাসপেশনের শাস্তি ভোগার জেরে গত হায়দ্রাবাদ এফসি ম্যাচে স্ট্যান্ড থেকে খেলা দেখছিলেন এসসি ইস্টবেঙ্গল কোচ রবি ফাউলার। কিন্তু তাতেও শান্তি নেই ফেডারেশনের। স্ট্যান্ড থেকে হায়দ্রাবাদের খেলোয়াড়দের অশালীন মন্তব্য করেছেন রবি ফাউলার, এমন কারণ দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে শো কজ নোটিস জারি করেছে ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কমিটি। একই দোষে শো কজ নোটিস পেয়েছেন সহকারী কোচ টনি গ্রান্টও।

এই নিয়ে ভারতীয় ফুটবল মহলে বেশ আলোচনা চলছে। ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা স্বভাবতই ক্ষুব্ধ ফেডারেশনের এমন আচরণে। এই পরিস্থিতিতে নিজের মতামত দিতে গিয়ে ফাউলারের সমালোচনা করেন দিল্লি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শাজি প্রভাকরণ। কিন্তু সেই মতামতের এমন জবাব দিলেন লাল-হলুদ হেড কোচ, যার জেরে ব্যাকফুটে চলে যান প্রেসিডেন্ট।

নিজের টুইটারে আইএসএল প্রদত্ত প্রকাশিত সেই শো কজের খবরের টুইটটি রিটুইট করে শাজি প্রভাকরণ লিখেছেন, “ফাউলার এবং ওনার সহকারীকে বুঝতে হবে যে ভারতীয় ফুটবল ওনাদের আগমণের পরেই জন্মায়নি। ফাউলারকে একজন পেশাদার হিসেবে আচরণ করতে হবে এবং এমন অপমানজনক আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। আমরা ভারতে ওনার আগমণের মূল্য বুঝি কিন্তু ওনাকেও ওনার দায়িত্ব ভুললে চলবে না এবং নিজের বিশাল ভক্তসমাগমকে দুঃখ দেওয়া উচিত হবে না।”

আর সেই টুইটের দুরন্ত জবাব দেন লাল-হলুদের গ্যাফার। ফাউলার লিখেছেন, “দিল্লি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের হেড হিসেবে, আপনি নিজের দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছেন না তো? সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে সমালোচনা করা, এটি সত্যিই কি পেশাদারিত্ব আপনার তরফ থেকে?”

লিভারপুলের কিংবদন্তির তরফ থেকে এমন কড়া জবাবের টুইট পেয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছেন শাজি। এর জবাবে তিনি লিখেছেন, “আমি আপনার মতামতকে শ্রদ্ধা জানাই। আশা করি আগামী দিনে সাক্ষাৎ হলে আপনার হাত মেলাব। আমার এমন মন্তব্যের কারণ ছিল আপনার মত এমন বড়মাপের একজন দূতের থেকে যে আশা আমাদের ছিল। আমি নিশ্চিত আপনি ভারতীয় ফুটবলে অন্যান্য বিদেশী কোচের থেকে অনেক বেশি দিন থাকবেন। আমার শুভেচ্ছা রইল।”

প্রেসিডেন্টের সম্মানজনক এই টুইটের জবাব দিতে গিয়েও ফের নিজের মতটিকে জোরালো ভাবে তুলে ধরেন ফাউলার। এরপর তিনি লেখেন, “অবশ্যই আপনার সাথে হাত মেলাব যখন আমাদের সাক্ষাৎ হবে। কিন্তু দয়া করে আমাকে অপমানজনক বলবেন না, বিশেষত আপনি যখন জানেন না যে কি হয়েছে। প্রতিটা কাহিনীর দুটি দিক থাকে।”

আর সব শেষে, বিতর্ক শেষ করতে শাজি প্রভাকরণ লিখেছেন, “মুখিয়ে রয়েছি আমাদের সাক্ষাতের জন্য এবং আপনার সাথে ভারতীয় ফুটবল নিয়ে আলোচনা করার জন্য। ঈশ্বর আপনার মঙ্গল করুন।”

আর এই টুইট যুদ্ধের মাঝে লাল-হলুদ সমর্থক সহ ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীরা নিজেদের মতামতও পেশ করেছিল টুইটারে। ফলে বেশ বিস্তীর্ণ একটি আলোচনা সভা তৈরি হয়ে গিয়েছিল, যার জন্যই তৈরি হয়েছিল টুইটার, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মত সোশ্যাল মিডিয়াগুলি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here