আইপিএলে সাকিবের অংশগ্রহণ এখন প্রশ্নের মুখে

0

বাংলাদেশ : আইপিএলের আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। ইতিমধ্যেই সাকিব আইপিএলে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা সে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে জলঘোলা। শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজে সাকিবের ছুটির আপিল নিয়েই তৈরি হয়েছে সমস্যা। জানা গেছে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের সফরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অর্থাৎ বিসিবির কাছে ছুটির আপিল করেছিলেন সাকিব, যার নেপথ্যে অন্যতম কারণ ছিল আইপিএল। আইপিএলে অংশগ্রহণ করার জন্যই তিনি টেস্ট সিরিজে ছুটির আপিল করেছিলেন। এই বিষয়টি নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন সাকিব আল হাসান। কিন্তু পুরো বিষয়টি সাকিব অস্বীকার করা যান।

গতকাল একটি ফেসবুক লাইভে তিনি জানান বিসিবিকে দেওয়া তার পুরো চিঠিটা তারা ভালো করে পড়ে দেখেন নি সেখানে সে কখনোই টেস্ট সিরিজ না খালার কথা উল্লেখ করেননি। অবশ‍্য এর পাল্টা উত্তর বিসিবিও দেয়। সাকিবের দেওয়া সাক্ষাৎকার এর পর থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম সব জায়গাতেই সাকিবের বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হয়েছে জল্পনা। গতকাল সন্ধ্যায় নাজমুল হাসানের বাড়িতে বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসেন বিসিবির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আকরাম খান। তিনি জানান, ‘ পুরো বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বহু বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু একটা বিষয় বারবারই শুনছি যে সাকিব-আল-হাসান নাকি ছুটির আপিল করে চিঠি লিখেছিলেন এবং সেই চিঠিতে সে কখনোই টেস্ট সিরিজ খেলতে আপত্তি জানায়নি। আমরাই নাকি বুঝতে ভুল করেছি। তাহলে বিষয়টি পরিষ্কার যে টেস্ট খেলতে তার কোনো আপত্তি নেই। কাল আমরা সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে আলোচনায় বসবো।

যদি সাকিবের টেস্ট খেলতে কোনরকম সমস্যা না থাকে তাহলে সে শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে অংশগ্রহণ করতে পারে। পুরো বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি’। সাকিবের দেওয়া চিঠির বিষয়টি নিয়ে সবার প্রথমে বিসিবির পরিচালক আকরাম খানের দিকেই সাকিব অভিযোগের আঙুলটি তোলেন। এর উত্তরে আকরাম খান বলেন, ‘সাকিব চিঠিতে লিখেছিল শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যেই টেস্ট সিরিজ রয়েছে সাকিব সেটাতে অংশগ্রহণ না করে আইপিএলে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে খেলাটি রয়েছে সেটি কি খেলা সকলেই জানেন। এ বিষয়টি চিঠির মধ্যে উল্লেখ করা ছিল। কিন্তু সবকিছু করার প‍র যখন সে টেস্ট সিরিজ খেলতে কোনরকম আপত্তি প্রকাশ করছে না তখন বিষয়টি নিয়ে আমরা পর্যালোচনা করে দেখব’। তিনি আরোও বলেন আমরা যখন খেলতাম তখন কুড়ি ত্রিশ হাজার টাকা করে পেতাম কিন্তু আমরা কখনো বোর্ডের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলিনি বোর্ডের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করেছে’। আকরাম খানের কথায় একথা স্পষ্ট যে শাকিবের বোর্ডের বিরুদ্ধে গলা তোলা নিয়ে সকলের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। সাকিব তার দেওয়া সাক্ষাৎকারে এইচপি বিভাগের প্রধান নাঈমুর আজমের দিকেও আঙুল তুলেছেন। অবশেষে এখন অবধি কোনো রকম চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।