She Believes Cup 2021: ফুটবলের মক্কা কলকাতায় ক্ষুদে নারীদের নিয়ে অভিনব প্রতিযোগিতা

0

কলকাতা: ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’, এই প্রবাদপ্রতিম লাইনটি মহানগরীর বুকে আরও একবার প্রমাণির হল গত ২৪ মার্চ। যেদিন সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ম্যাচ কমিশনার অপরূপ চক্রবর্তীর পরিকল্পনা ও ঐকান্তিক প্রয়াসে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ‘সি বিলিভস কাপ ২০২১’। লক্ষ্য একটাই, নারীদের চার দেওয়ালের বাঁধন থেকে বের করে মাঠমুখী করা। তবে ফুটবল নয়, অপরূপ বেছে নিয়েছেন ফুটসলের মতন এক চমকপ্রদ খেলাকে। সাম্প্রতিককালে কলকাতায় কেবলমাত্র ক্ষুদে নারীদের নিয়ে এহেন উদ্যোগ দেখানোর সাহস কেউ দেখাতে পারেননি।

টুর্নামেন্টের শুরুতেই অপরূপ যে অন্য প্রশাসকদের তিনগোল দিয়ে ফেলেছেন তা নিঃসন্দেহে বলা যায়। এই প্রতিযোগিতার লক্ষ্য যেমন অভিনব ঠিক সেরকমই প্রতিযোগিতার নামকরণও যথার্থ ও চমকপ্রদ। নারীশক্তির বিকাশের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রীড়ামননের সম্প্রসারণ করাই অপরূপের প্রধান লক্ষ্য। এই অভিনব উদ্যোগে অপরূপের নিজস্ব কোম্পানি প্রোইন্ডিয়া ইতিমধ্যেই পাশে পেয়েছে লিভারপুল ফুটসলের মতন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে, যা এই শহরের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিরল নজির। অনূর্ধ্ব তেরো বিভাগের সর্বমোট ছটি দল এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে তপসিয়ার এক কৃত্রিম ঘাসের মাঠে। এই প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল আদিবাসী ফুটবল অ্যাকাডেমি। ফাইনাল ম্যাচে তারা সরশুনা ফুটবল ক্লাবকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। সর্বোচ্চ স্কোরার: টুর্নামেন্টে ৫ টি গোল নিয়ে আদিবাসী ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকে শ্রীজনী মান্ডি।

ইতিমধ্যেই বাংলার ফুটবল নিয়ামক সংস্থা আইএফএ এই টুর্নামেন্টটিকে অনুমোদন দিয়েছে। প্রতিযোগিতার শেষে সকল ক্ষুদে নারীদের দেওয়া হবে ব্রিটেনের ফুটসল লিগ সচিব পিটার সার্পেল্সের সাক্ষরিত সার্টিফিকেট। পিটার বলছিলেন, “অপরূপের এই ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। দেখে ভাল লাগছে যে আইএফএ এই ধরনের উদ্যোগকে মান্যতা দিয়েছে। এরকম প্রশংসনীয় উদ্যোগ ফুটসলের অগ্রগতির জন্য ভীষণ ভাবে দরকার।” প্রতিযোগিতার অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জাতীয় দলের ফুটবলার মেহতাব হোসেন। মেহতাবের মতে, “নয় থেকে বারো বছরের ক্ষুদে ফুটবলারদের সঠিক প্রশিক্ষণ দিলে ওরাই ভবিষ্যতের তারকা হয়ে উঠতে পারে। অপরুপ একদম সঠিক বয়সের শিক্ষার্থীদের নিয়েই কাজ করছেন। ভবিষৎ-এ ওর উদ্যোগের সাফল্য কামনা করি।”

লিগ সিইও সুনন্দ ধর জানান, “আইএফএ ও প্রোইন্ডিয়া যৌথ ভাবে এক অসাধারণ উদ্যোগ নিয়েছে। এআইএফএফও অনূর্ধ্ব ১৩ , অনূর্ধ্ব ১৫ ও অনূর্ধ্ব ১৮ বিভাগের ফুটবলে বরাবরই বাড়তি নজর দিয়েছে। অপরূপের দুরদর্শিতা প্রশংসার দাবি রাখে। এই বয়সের সকলের মধ্যে ফুটবলটা এভাবে ছড়িয়ে দিলেই ফুটবলের উন্নতি হবে।” আর যার মস্তিষ্কপ্রসূত এই টুর্নামেন্ট সেই অপরূপ চক্রবর্তীর মন্তব্য, “আমার প্রতিটা উদ্যোগের পিছনে এক সুদুরপ্রসারী চিন্তাধারা থাকে। বর্তমানে, ফুটবলারদের পারফরম্যান্সের যথাযথ বিশ্লেষণ করাটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক্ষেত্রে আমরা প্রতিটা প্রতিযোগির তথ্য বিশ্লেষণ করে কোচেদের হাতে তুলে দেব। ভারতীয় ফুটবলে এর আগে এধরনের পেশাদারি উদ্যোগ কেউ দেখাননি। ইউরোপের প্রথম সারির দেশগুলোতে এ ধরনের ভাবনার হদিশ মেলে। ভবিষ্যতে নিজেদেরকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবে প্রতিযোগীরা।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here