আমফান মোকাবিলায় তৈরি রাজ্য সরকার, উপকূলে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

0

কলকাতা: ধেয়ে আসছে সুপার সাইক্লোন আমফান। মঙ্গলবার সন্ধ্যাতেই প্রবল ঘূর্ণি ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে। ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর এলাকাতে শুরু হয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড়। বুধবার আশঙ্কা রয়েছে কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলাতেও। রাজ্য সরকার এই ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সতর্কতা ব্যবস্থা নিচ্ছে। উপকূলবর্তী এলাকাতে বসবাসকারী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এনডিআরএফ, বিএফএফ বাহিনীও সুপার সাইক্লোন আফমানের মোকাবিলায় তৈরি রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কা রয়েছে সুন্দরবন এলাকায়। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো রকম কমতি রাখা হয়নি সরকারের পক্ষ থেকে। সুপার সাইক্লোন আমফানের ফলে পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগর কাঁথি ও খেজুরির সমস্ত ব্লকে চূড়ান্ত সর্তকতা জারি করা হয়েছে। ২৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানোর কাজ চলছে। দীঘার সমুদ্র সৈকতে ৪-৫ মিটার পর্যন্ত ঢেউ উপছে পড়ছে। ক্রমশ বাড়ছে জলোচ্ছ্বাস।

সুন্দরবন এলাকাতে বিএসএফ বাহিনী স্পিডবোট, লঞ্চের ব্যবস্থা করেছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী আমফান নিয়ে বলেন, “আয়লার থেকেও ভয়ঙ্কর হতে পারে ঘূর্ণিঝড় আমফান। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। আমফান মোকাবিলায় মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে গঠিত টাস্ক ফোর্স কাজ করছে। কাল বেলা বারোটা থেকে পরশু সকাল ১০টা পর্যন্ত কেউ বাড়ি থেকে বেরোবেন না।” আমফানের আগাম প্রভাবে মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যের বেশ কিছু জায়গাতে আকাশের মুখ ভার এমনকি শুরু হয়েছে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি। শক্তি বৃদ্ধি করে বাংলার দিকের ধেয়ে আসছে আমফান এমনটাই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বঙ্গের উপকূলগুলিতে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, দিঘা থেকে দক্ষিণ, দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ৬৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে আমফান। আগামিকাল দুপুর অথবা সন্ধ্যা নাগাদ দীঘা (পশ্চিমবঙ্গ) এবং হাতিয়া (বাংলাদেশ) উপকূল দিয়ে পেরাবে। এই দুটি জায়গা পাড় করার সময় সর্বাধিক বাতাসের গতি থাকবে ১৬৫-১৭৫ কিলোমিটার যা বেড়ে ১৯৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা এই দুই জেলাতে উচ্চপর্যায়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আমফানের প্রভাব সবথেকে বেশী এই দুই জেলাতে বেশী পড়তে পারে বলেই জানানো হয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here