গত ছয় মাসে চীন সীমান্তে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটেনি, লাদাখ ইস্যু নিয়ে সংসদে জানালো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

0

নয়াদিল্লি: সোমবার থেকে শুরু হয়েছে লোকসভার মনসুন অধিবেশন। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে গত ছয় মাসে ইন্দো-চীন সীমান্তে কোনও অনুপ্রবেশ হয়নি, কারণ লাদাখে চীনা সেনা কর্তৃক অভিযোগ করা আক্রমণকে ‘অপরাধের চেষ্টা’ বলে মনে করছে সরকার।

রাজ্যসভার সাংসদ ডাঃ অনিল আগরওয়ালের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায় বলেছেন, “গত ছয় মাসে ভারত-চীন সীমান্তে কোনও অনুপ্রবেশের খবর পাওয়া যায়নি।” তবে তিনি আর কোনও ব্যাখ্যা দেননি। তাঁর উত্তরে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশের ৪৭ টি প্রচেষ্টা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে পূর্ব লাদাখে চীনা সেনা এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে অবিচ্ছিন্ন দ্বন্দ্বের আলোকে এই বিবৃতি বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সীমান্তে কোনও ধরনের আক্রমণাত্মক ঘটনা না ঘটলে ভারত কেন কূটনৈতিক ও সামরিক বৈঠকে এপ্রিলের মতো স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে পারছে না এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছিলেন যে নিত্যানন্দ রাইয়ের উত্তর প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে আলাদা নয়। একজন পদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন যে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং মঙ্গলবার লোকসভায় ভাষণে চীনা সেনা কর্তৃক সীমানা লঙ্ঘনের কথাও বলেছিলেন। রাজনাথ সিং মঙ্গলবার তাঁর ভাষণে বলেছিলেন চীনা সেনাবাহিনী “পশ্চিমাঞ্চলের কিছু অংশে এলএসিকে লঙ্ঘন করার এবং স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করার জন্য বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, তবে ভারতীয় সেনারা সেই প্রচেষ্টা রুখে যথাযথভাবে জবাব দিয়েছে।” তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে বর্তমানে এলএসি-তে চীনারা কোথায় রয়েছেন সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।

এর আগেও সরকার লাদাখে চীন কর্তৃক লঙ্ঘনের বিষয়ে অস্পষ্ট ছিল। আগস্টে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে একটি নথি পূর্ব লাদাখের ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা অনুপ্রবেশের বিষয়টি স্বীকার করেছিল, তবে দু’দিন পরে তা সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। লাল ফৌজের দ্বারা ভারতের ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক এই নথিটি প্রথম স্বীকৃতি ছিল। তবে চিন প্যাংগং হ্রদের কাছে অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা করেছে ২৯-৩০ আগস্টের পরও। সূত্রের খবর ২৯-৩০ আগস্টে ১০০-২০০ রাউন্ড শূন্যে গুলি চালিয়েছিল ভারত ও চিনা সেনা। তবে এই নিয়ে দু দেশের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়েনি। অন্য দিকে লাদাখ ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করতে চাইলে কেন্দ্র তাতে রাজী নয় বলেই অভিযোগ করে বিরোধীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here