ফাঁকা বাড়িতে রান্না করে খেয়ে-দেয়ে হাত সাফাই চোরেদের

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, নরেন্দ্রপুর: চোরের দল বেরিয়েছিল চুরি করতে৷ রাতের অন্ধকারে ঢুকে পড়ে একটি বাড়িতেও৷ কিন্তু ফাঁকা বাড়ি পেয়ে সময় নিয়ে রয়ে-সয়ে কাজ সারে তারা৷ রান্নাবান্না করে খেয়ে-দেয়ে কাজে লেগে পড়ে৷ কাজ শেষ হতেই চম্পট দেয় চোরের দল৷ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার পূর্ব আদর্শনগরে৷

এই বাড়িতে একাই থাকেন শেফালি সর্দার৷ স্বামী অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছে৷ এক ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে থাকে৷ মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে৷ শ্বশুড়বাড়ি সোনারপুরের উত্তরায়ণপল্লিতে৷ শুক্রবার তিনি মেয়ের বাড়িতেই যান৷ শনিবার সকালে বাড়ি ফিরে আসেন৷ দরজা খুলে ঘরে ঢুকে দেখেন গোটা বাড়ি লন্ডভন্ড৷ আলমারি হাট করে খোলা৷ সব জিনিসপত্র বাইরে ছড়ানো৷ বুঝে যান বাড়িতে হানা দেয় চোরের দল৷ তিনি জানান, মেয়ে সন্তানসম্ভাবা৷ চলতি মাসেই ডেলিভারি হওয়ার কথা৷ শুক্রবার রাতে মেয়ের বাড়ি যান৷ রাতে সেখানেই থেকে যান৷ সকালে বাড়ি এসে দেখেন ঘর পুরো লন্ডভন্ড৷

এমনকী রান্নাঘরেও ঢুকে দেখেন, সেখানেও সব ওলটপালট করা৷ তিনি জানান, চালের ড্রাম থেকে চাল নিয়েছে চোরেরা৷ ফ্রিজে শুধু লঙ্কা পান৷ ঘরে থাকা স্টোভ জ্বালিয়ে ভাত করে৷ পিঁয়াজ কাটা দেখে বুঝতে পারেন, চোরেরা পেঁয়াজও ভাজে৷ সেই দিয়ে ভাত খায়৷ বাড়িতে কেউ না থাকায় তাই ধীরে সুস্থে রান্নাবান্না করে চুরির কাজে হাত দেয় তারা ৷ এদিকে যে ঘরে মালপত্র রাখা, সেখানে আলো কম থাকায় চোরেরা সমস্যার মধ্যে পড়েন৷ তাই বাথরুম থেকে বাল্ব খুলে মালপত্র রাখার ঘরে আলো লাগিয়ে কাজে নেমে পড়ে ৷ ঘরের আলমারি, সুটকেস, ট্রাঙ্ক কোনওকিছুতেই হাত দিতে বাদ দেয়নি তারা৷ শেফালি দেবী জানান, মেয়ের ডেলিভারির জন্য ৪৫ হাজার টাকা রেখেছিলেন৷ সেই টাকা ও গয়না নিয়ে চলে গিয়েছে চোরেরা৷ সর্বস্ব খুইয়ে মাথায় হাত শেফালী দেবীর৷