হারানো শৈশব ফিরে পেতে আসতেই হবে এই মণ্ডপে

0

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: শৈশবের সেসব দিনগুলি ফিরে দেখতে হারিয়ে যাওয়া খেলনা দিয়ে এবার অভিনব মণ্ডপসজ্জা করেছেন মধ্য হাওড়ার স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংসদের সদস্যরা। ২১/১/এ, দিনু ফার্স্ট বাই লেন, ষষ্ঠীতলা, কদমতলা – ৭১১১০১ ঠিকানায় এদের পুজো মণ্ডপ। এবার এদের পুজো ৭৫ বছরে পদার্পণ করল। এবারের ভাবনায় ‘শৈশবে ফিরে দেখা’।

ভাবনার মূল বিষয় হল, মোবাইল গেমের প্রভাবে ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে অতি জনপ্রিয় বেশ কিছু খেলনা। সেই খেলনাগুলি নিয়ে খেলে কেটেছে যে যে শিশুদের শৈশব তাদের উপর এখনও বিশেষ প্রভাব ফেলেনি অতি যান্ত্রিকতা। শৈশবের সুস্থ চঞ্চল মনোভাবকে সেই সব খেলনা কোনোদিন থমকে দেয়নি।

আজ মোবাইল গেমের অতিরিক্ত প্রভাবে সেই সব খেলনা যেমন বিপন্ন তেমনই ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে সেদিনের সেই খেলনাগুলি। আড়ালে আবডালে হারিয়ে যাচ্ছে সুস্থ শৈশব। তাই উদ্যোক্তাদের স্মৃতিচারণে এবার কাগজের উড়োজাহাজ, নৌকা, কাটাকুটি, মোমের পুতুল, তালপাতার সেপাই।

হাওড়া ‘স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সংসদ’ মনে করে এখনও সময় আছে। হারিয়ে যাওয়া খেলনারা অনেকটাই বেঁচে রয়েছে আমাদের পূর্বজন্মের মধ্যে। যারা সুস্থ শৈশব কাটিয়ে এসেছি তারাই পারি ভবিষ্যতের হাতে একটা সুস্থ দিন তুলে দিতে। সেই লক্ষ্যেই এই প্রয়াস ‘শৈশবে ফিরে দেখা’।

কিভাবে সেজে উঠবে এদের মণ্ডপ? ক্লাব কর্তাদের কথায় তিনটি ভাগে তা ভাগ করা হয়েছে। একদম বাইরের অংশে থাকবে বাংলার বিভিন্ন পার্বণ উপলক্ষে মেলায় বিক্রি হওয়া খেলনা। দ্বিতীয় অংশে দেখা যাবে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিকের তৈরি ছাঁচের খেলনা, তৃতীয় অংশে থাকবে হাতে তৈরি খেলনা।

মণ্ডপ পুরোটাই সেজে উঠবে ইন্সটলেশনের মাধ্যমে। মণ্ডপের সামনে থাকবে একটি বায়স্কোপ। যেন মনে হবে ওই বায়স্কোপ যন্ত্রের মাধ্যমেই সদ্য ত্রিশ পেরোনোরা বা পঞ্চাশের কোঠায় দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ ফিরে যেতে পারবে তাঁর ফেলে আসা শৈশবে। আর আজকের ছোটরা জানবে কিছু অযান্ত্রিক খেলাকে। আর ওরা বুঝতে না পারলে, জানতে না পারলে সে দায়িত্ব বড়দের।

পার্বণ উপলক্ষে মেলায় বিক্রি হওয়া খেলনা তালপাতার সেপাই, ড্যাংগুলি, লাট্টু, গুলি, লুডো, প্লাস্টিকের খেলনা, পুতুল, গাড়ি, খেলনাবাটি, হাতে তৈরি খেলনা, কাগজের উড়োজাহাজ, নৌকা, পাখি, ঘুড়ি, কাটাকুটি খেলার সমাহার ঘটবে এদের মণ্ডপে।

এবারের সৃজন ও ভাবনায় রয়েছেন সুমন নন্দী ও অভিজিৎ মণ্ডল। উদ্যোক্তাদের আশা এবার তাদের অভিনব মণ্ডপ বাংলার দর্শনার্থীদের নজর কাড়বেই।