মিডিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়

0
biswabharati notification on media

কৌশিক সালুই, বীরভূম: বিশ্বভারতীতে নতুন ফরমান জারি করা  হল। ২০০৭ সালের এক বিজ্ঞপ্তির উল্লেখ করে বিশ্বভারতীর সমস্ত টিচিং, নন টিচিং স্টাফদের নির্দেশ দেওয়া হল, কেউ যেন সরাসরি মিডিয়ার কাছে মুখ না খোলেন।

এমনিতেই নতুন উপাচার্য আসার পর একের পর এক ফরমান জারি করছেন।  সেই চাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন কর্মী বা শিক্ষকেরা মুখ খোলেন না মিডিয়ার কাছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে বলে হয়, এর জন্য জনসংযোগ আধিকারিক আছেন। কিন্তু তিনি সাংবাদিকদের ফোন ধরেন না, ধরলেও মুখ খোলেন না।

এবার এই নির্দেশ জারি করে মিডিয়ার সাথে যোগসূত্র ছিন্ন করতে চাইছে বিশ্বভারতী। এক কথায় এই ফরমান, “মিডিয়াকে টাইট” দিতেই বলেই মনে করছেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে অধ্যাপকেরা। আগেও মিডিয়া প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করা, কোন  ঘটনা ঘটে থাকলে তা গোপন করা হয়েছে। নতুন  উপাচার্যের এই নির্দেশ কি কণ্ঠ রোধ করতে চাইছে সেই প্রশ্ন উঠছে ছাত্রছাত্রীদের মনেও।

 

এই নির্দেশে বলা হয়েছে, কোন বক্তব্য থাকলে এবং সেটা মিডিয়াকে জানাতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ আধিকারিকের মাধ্যমে জানাতে হবে। কারণ, তিনিই বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র। বলা হয়েছে, জনসমক্ষে প্রচারের আলোতে আসতে বা নিজের গুরুত্ব বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক বা কর্মী মিডিয়ার কাছে মুখ খোলেন। কিন্তু সেটা এবার থেকে বন্ধ।

১৯৬৪ সালের সেন্ট্রাল সিভিল সার্ভিসেস রুলস অনুযায়ী একমাত্র জনসংযোগ আধিকারিক ছাড়া বিশ্বভারতীর কোন কর্মী অনুমতি না নিয়ে প্রেস পার্সোনেল,  প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কাছে মুখ খুলতে পারবে না। যদি এই নির্দেশ না মানা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য বলেন, এখানে উল্লেখিত সিসিএস নিয়মাবলী কেবলমাত্র সরাসরি সরকারী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু স্বয়ংশাসিত সংস্থা, তাই কোনভাবেই তা বিশ্ববিদ্যালয়ে লাগু হতে পারেনা।  অক্টোবর ২০১৮ তে তদানিন্তন মানবসম্পদ উন্নয়ণ মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর সেকথা পরিষ্কার জানিয়েছিলেন।