ভেজাল হলুদের রমরমা কারবার, নজরদারির অভাব প্রশাসনের

0

মাধব কুমার, মালদা: গোটা হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে চলছে ভেজাল হলুদের রমরমা কারবার। আর এর শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষেরা। সাধারণ মানুষ কিছু না জেনেই এই হলুদ খোলা বাজার থেকে কিনে খাচ্ছেন। ফলে প্রায়শই পেটের রোগ সহ নানারকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন একাধিক এলাকাবাসী। সম্প্রতি হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লক সমষ্টির স্থানীয় বাসিন্দারা উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ হরিশ্চন্দ্রপুর থানা ইসলামপুর তিল ডাঙ্গী, রামপু্‌ ইসলামপুর, মালিয়র প্রভৃতি এলাকায় বিভিন্ন মিলে হলুদ গুঁড়ো করা হচ্ছে, এর সঙ্গে মেশানো হচ্ছে ধানের তুষের গুঁড়ো, চালের গুঁড়ো, আটা ও বিভিন্ন রকম রাসায়নিক রঙ। এই বিষাক্ত ও ভেজাল হলুদ খোলা বাজারে ও বিভিন্ন হাটে দেদার বিক্রি হচ্ছে। দরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত-সাধারণ মানুষ এই হলুদ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই ভেজাল হলুদ দিয়েই রান্না হচ্ছে। হলুদে ভেজাল আছে কিনা তাও খালি চোখে বোঝা যাচ্ছে না।

এই হলুদ দিয়ে রান্না খেয়ে প্রায় পেটের অসুখে ভুগছেন এই সমস্ত এলাকার শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তিরা। প্রশাসনিক নজরদারির অভাবে হরিশ্চন্দ্রপুরের বাজারে ঢালাও বিক্রি হচ্ছে এই ভেজাল হলুদ। প্যাকেট হলুদের থেকে দাম কম হওয়াতে সাধারণ মানুষ এই হলুদের প্রতি বেশী ঝোঁক বাড়াচ্ছে। হরিশ্চন্দ্রপুর হাটে খোলা হলুদ বিক্রি করতে আসা মইনুল হক নামে এক বিকৃত জানালেন, তিনি তাঁর নিজের বাড়িতেই হলুদ পেশাই করে বিক্রি করেন। কোন মিল থেকে তিনি হলুদ কেনেন না, তাঁর হলুদে কোন রকম ভেজাল নেই।

বাইরে থেকে পেষাই করে আসা হলুদ গুলোতে ভেজালের সম্ভাবনা বেশি থাকে। রামপুর এলাকার এক হলুদ মিলের মালিক অতীশ সাহা জানাচ্ছেন, আগে তার মিলে হলুদের সঙ্গে অন্য কিছু মেশানো হলেও এখন তিনি বিশুদ্ধ হলুদ তৈরি করেন। এখন হলুদে আর তিনি ভেজাল মেশান না। এলাকার এক মুদি ব্যবসায়ী উৎপল সরকার জানালেন, তিনি তার দোকানে খোলা হলুদ রাখেন না। তার দোকানের গ্রাহকরা খোলা হলুদ নিতে চান না। ওই খোলা হলুদে প্রচুর পরিমাণে ভেজাল মেশানো হয়। তাই তিনি নামি প্যাকেট জাত এবং ব্র্যান্ডেড কোম্পানির হলুদ বিক্রি করে থাকেন।

এই হলুদ দামে বেশি হলেও এর থেকে কোন রোগের আশঙ্কা থাকে না। হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকা জুড়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজন রান্নাতেও এই হলুদ ব্যবহার হয়ে থাকে। ব্লক মিড-ডে-মিল দপ্তর থেকে খোলা মশলায় রান্না করতে বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছে। তাই এলাকার বিভিন্ন স্কুলে এখন প্যাকেট মশলা দিয়ে রান্না হয়। এ বিষয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর হাইস্কুলের মিড ডে মিলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মোস্তাক আহমেদ জানালেন, তাদের বিদ্যালয়ে যে মধ্যাহ্নকালীন রান্না হয় তা সম্পূর্ণ প্যাকেটজাত মশলা দিয়ে তৈরি করা হয়। প্রতিটি মশলা গুণমান সম্পন্ন।

ছাত্রদের শরীর স্বাস্থ্য নিয়ে তারা খুব সচেতন। তাই প্রতিদিনই খুব হাইজেনিক ভাবে মিড ডে মিলের রান্না তৈরি করা হয়। এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে ব্লক স্বাস্থ্য অধিকর্তা ডাক্তার অমল কৃষ্ণ মন্ডল জানালেন, মূলত হলুদে যদি চালের গুঁড়ো আটা এই সব মেশানো হয় তাহলে পেটের অসুখের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে আর যদি ক্ষতিকর বিষাক্ত রঙ মেশানো হয় তাহলে ক্যান্সার আলসার ইত্যাদিও হতে পারে। কারসিনোজেনিক রঙ মেশালে মানবদেহে এই হলুদ মারাত্মক ক্ষতি করে।
প্রশাসনের এই ব্যাপারে নজরদারি চালানো উচিত।

হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার রামপুরের বাসিন্দা মেরাজুল ইসলাম শেখ মহবুল হক জানালেন, এই সমস্ত খোলা হলুদে চালের গুঁড়ো ধানের তুষ বিভিন্ন বিষাক্ত রং মেশানো হচ্ছে। এগুলো সরাসরি পেটে গিয়ে বাড়ির শিশু থেকে বয়স্ক লোক পেটের অসুখে ভুগছেন সারাবছর। এ বিষয়ে প্রশাসনকে সজাগ হতে হবে। এগুলো অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন। এই প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর এক নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু ক্যামেরার সামনে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।