লকডাউনকে অবজ্ঞা করে রাস্তায় হুল্লোড় করতে দেখা গেলে জেল-জরিমানা

0

কলকাতা: সোমবার থেকেই দেশের প্রায় ৩০ টি রাজ্যে জারি করা হয়েছে লকডাউন। সারা ভারতে এমনকি সারা বিশ্বে করোনা যে হারে তার তান্ডব দেখাচ্ছে তার থেকে মানুষকে সাবধান রাখতেই এই ‘লকডাউন’-এর ব্যবস্থা। এমনকি বাংলায় সে লকডাউন প্রথমে ২৭ মার্চ অবধি বলা হলেও মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন অন্যান্য রাজ্যের মতো এ রাজ্যেও ৩১ মার্চ অবধি লকডাউন জারি থাকবে।

কিন্তু এই ‘লকডাউন’ কথাটির আসল অর্থ কি তাই বুঝতেই নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে কলকাতার তথাকথিত শিক্ষিত সমাজের একাংশ। লকডাউন কথাটির আসল অর্থ তালাবন্দি। লকডাউন বা তালাবন্দি মানে যে ছুটি নয়, সেই বার্তাই একাধিকবার দিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসন। তাই ছুটির মেজাজে পথেঘাটে ভিড় জমালে বা হুল্লোড় করলে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে সোমবার নির্দেশিকা দিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে বলেন, “এখনও কিছু নাগরিক লকডাউনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। দয়া করে নিজেকে বাঁচান, নিজের পরিবারকে বাঁচান। নিয়ম পালন করুন। সব রাজ্য সরকারকে আমার অনুরোধ, নিয়মকানুন পালনের বিষয়টি তারা নিশ্চিত করুক।”

রবিবার বিকেলে ‘জনতা কার্ফু’ চলাকালীন অনেকেই কাঁসর, ঘণ্টা, থালা হাতে রাস্তায় নেমে রীতিমতো হুল্লোড় করেছেন। এমনকি কিছু জায়গায় ফেটেছে পটকাও। তাতেই টনক নড়ে প্রশাসনের। কেন্দ্রের বক্তব্য, রাজ্যগুলিকে বলা হয়েছে, কেউ অকারণে পথে নামলে, বিশেষত জমায়েত করলে তাঁর বিরুদ্ধে মহামারি প্রতিরোধ আইন ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা আইনের আওতায় ফৌজদারি বিধিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সে-ক্ষেত্রে জেল ও জরিমানা দুই-ই হতে পারে। রাজ্যে মহামারি আইন বলবৎ আছে।কেন্দ্র জানিয়েছে, জেলাশাসক, এসপি, পুলিশ কমিশনারদের এর জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হবে। কেউ যাতে অকারণে রাস্তায় না-বেরোন, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এসব নিয়েই এদিন সব রাজ্যের ডিজিপির সঙ্গে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবও। নির্দেশ না-মানলে কড়া ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

মূলত সোমবার বিকেল ৫টার পরে পথ গাড়িহীন ও জনশূন্য করতে কলকাতায় রাস্তায় নামেন ডিসি স্তরের আধিকারিকেরা। পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা জানান, নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে ২৫৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার খবর, বিভিন্ন কমিশনারেট এবং জেলা সদরেও পুলিশ রাস্তাঘাটে টহল দিয়েছে। রাতেও সেই টহল অব্যাহত থাকে। লকডাউনকে সফল করতে কোথাও কোথাও লাঠিচার্জও করে পুলিশ। রাতের দিকে যান চলাচল রুখতে চলে নাকা তল্লাশি।

লকডাউন চলাকালীন যা যা করবেন না : ১) প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে যাবেন না। ২) রাস্তায় বা মাঠে ফুটবল, ক্রিকেট, আড্ডা নয়। ৩) সাত বা তার বেশি লোকের জমায়েত চলবে না। ৪) বন্ধু বা প্রতিবেশীর বাড়িতে পার্টি-পিকনিক নয়।

অমান্যের সাজা : ১৮৮ ধারা: সরকারি আদেশ অমান্য (মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবন সঙ্কটে ফেলতে পারে)। ছ’মাসের জেল, এক হাজার টাকা জরিমানা।
২৬৯ ধারা: সংক্রামক ও বিপজ্জনক রোগ ছড়ানো। ছ’মাসের জেল, জরিমানা।
২৭০ ধারা: মারাত্মক রোগ ছড়ানো। দু’বছরের জেল ও জরিমানা।
২৭১ ধারা: কোয়রান্টিন নিয়ম ভাঙা। ছ’মাসের জেল ও জরিমানা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here