সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রাখতে ‘সেফটি সার্কেল’ করে দিল পুলিশ

0

কৌশিক সালুই, বীরভূম: লকডাউন পরিস্থিতিতে ভিড় জমছে সবজি ও নটকোন দোকানে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় থাকছে না। এবার সোশ্যাল ডিসটেন্স বজায় রাখতে উদ্যোগ গ্রহণ বীরভূম জেলা পুলিশের। খাদ্য সামগ্রীর বিভিন্ন দোকানে সেফটি সার্কেল করে দেওয়া হল। জেলাজুড়ে বুধবার পুলিশের পক্ষ থেকে এই কাজ করা হয়। অন্যদিকে খাদ্য সামগ্রীর কালোবাজারি রুখতে জেলা প্রশাসনের হানা নিয়মিত চলছে।

বীরভূম জেলা পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে এদিন জেলাজুড়ে সিউড়ি, বোলপুর এবং রামপুরহাট মহকুমা নটকোন, সবজি, রান্নার গ্যাস ও ওষুধের দোকানে সেফটি সার্কেল করে দেওয়া হয়েছে চুন দিয়ে। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশি পরিমাণে খাদ্য সামগ্রী মজুদ করার প্রবণতা শুরু হয়েছে। ফলে নটকোন ও সবজির দোকানে ক্রেতাদের প্রচুর ভিড় জমছে।

এবার সোশ্যাল ডিস্ট্যান্স বজায় রাখতে সেফটি সার্কেল করার উদ্যোগ করা হয়েছে। বীরভূম অতিরিক্ত জেলা শাসক উন্নয়ন শুভাশিস বেইজ এদিন সিউড়ি শহরের হাটজন বাজার এলাকায় খাদ্যসামগ্রীর দোকানে গিয়ে নজরদারি চালান কালোবাজারি রুখতে। রামপুরহাট মহকুমা শাসক শ্বেতা আগারওয়াল এদিন রামপুরহাট শহরের বিভিন্ন দোকান ও বাজার ঘুরে দেখেন। ভিড় না করে এবং নিজেদের মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে কেনাকাটা করার আহ্বান জানান তিনি।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে এদিন সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ৩২ জন আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। বোলপুর মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের তিনজন এবং রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনজন ভর্তি আছেন। গত মঙ্গলবার বীরভূম জেলায় আইসোলেশন থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৩৭ জন বুধবার সেটি বেড়ে ৩৮ হয়। যদিও তারা কেউ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত নন। সর্দি এবং জ্বর নিয়ে ভর্তি আছেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে লকডাউন পরিস্থিতি না মানার জন্য গত মঙ্গলবার জেলাজুড়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার সেই সংখ্যা শূন্যতে নেমে আসে। কারণ প্রথম দুই দিন সাধারণ মানুষের মধ্যে অকারণে বাড়ির বাইরে ঘোরাঘুরি করার প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। পুলিশ বল প্রয়োগ শুরু করতেই সেই সংখ্যা কমে এসেছে।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে নিয়মিত অভিযান চলবে। বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার শ্যাম সিং বলেন, “বিগত দু’দিন কিছু মানুষ অকারণে বাড়ির বাইরে এলেও এদিন আর কাউকে সেভাবে দেখা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বীরভূম জেলার মানুষ। তবে পুলিশের নাকা চেকিং চলবে নিয়মিত”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here