২১ দিন লকডাউন, দুঃস্থদের খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করল পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা

0

কৌশিক সালুই, বীরভূম: পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভারতবর্ষ করোনা ভাইরাসের কবলে পড়েছে। এই মহামারী থেকে বাদ যায়নি পশ্চিমবঙ্গও। চলছে লকডাউন। বন্ধ হয়ে গিয়েছে সমস্ত কাজকর্ম। আর তাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দুস্থ এবং খেটে খাওয়া মানুষেরা। জেলার ঘরবন্দী সেই সব মানুষদের খাবার যোগাতে উদ্যোগী হল বীরভূম জেলা পুলিশ। সিউড়ি থানার কিছু এলাকায় বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও শাকসবজি।

পাশাপাশি মাস্ক সাবান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে রান্না করা খাবার বিলি করা হচ্ছে দুঃস্থ মানুষদের কাছে। অন্যদিকে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। বীরভূম জেলা পুলিশের সিউড়ি থানার পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার গৃহবন্দী দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষদের হাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দেওয়া হল খাদ্য সামগ্রী। বাঁশঝোড়, শাহ পাড়া, বারুইপুর, ছাপতলা প্রভৃতি এলাকার মানুষদের হাতে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়েছে।

সিউড়ি থানার আইসি চন্দ্রশেখর দাস এদিন নিজে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচি পালন করেন। এই কর্মসূচিতে সহায়তা করেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা কাজল শাহ ও অন্যান্য তৃণমূল কর্মীরা। সিউড়ি থানার আইসি চন্দ্রশেখর দাস বলেন, “গৃহবন্দী দুঃস্থ মানুষদের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগী হয়েছি আমরা। যা আগামী দিনেও চলবে।” অন্যদিকে জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আইসোলেশনে যাওয়ার রোগীর সংখ্যা কমেছে। সিউড়ির সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ৩০ জন, রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং বোলপুর মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসাধীন।

সিউড়ি এবং রামপুরহাটের আইসোলেশনে থাকা রোগীদের দেহরস পরীক্ষার কোনো প্রয়োজন হয়নি এখনও পর্যন্ত। অন্যদিকে বোলপুরের তিনজনের দেহ রস পরীক্ষা করা হয়েছে। দুইজনের রিপোর্ট এসেছে, তাতে নেগেটিভ পাওয়া গিয়েছে এবং আরেকজনের রিপোর্ট এখনও পর্যন্ত আসেনি। বীরভূমের জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, “জেলাতে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। স্বাস্থ্য দফতর সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছে”। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ভবঘুরে এবং দুস্থ মানুষদের খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য উদ্যোগ শুরু করেছে সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা।

রামপুরহাট রেল স্টেশনের ভবঘুরেদের রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এদিন থেকে দুইবেলা করে খাবার প্যাকেট বন্দি সেই ভবঘুরেদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। অন্যদিকে বোলপুর শহরে গত তিনদিন ধরে এভাবে রান্না করা খাবার বিলি করা হচ্ছে। তাছাড়া পথের কুকুরদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে সংবাদ কর্মীদের পক্ষ থেকে। সাঁইথিয়া শহরে সংবাদকর্মীরা এইভাবে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে দুঃস্থ মানুষদের কাছে। লকডাউন পরিস্থিতি পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা তাদের এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here