মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় অপমান, আত্মঘাতী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী

0

মাধব কুমার, মালদা: গ্রামের এক বড়লোকের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিল এক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। মেয়ের সঙ্গে তার ভালোবাসা মেনে নিতে পারেনি ওই বড়লোক। ওই যুবককে শিক্ষা দেওয়ার ফন্দি আঁটছিল সে। সুযোগ আসে গত মঙ্গলবার। সেদিন সন্ধ্যায় যুবক ওই ব্যক্তির গাছ থেকে কয়েকটি আম খাওয়ার জন্য বলে। তার জন্য সেই রাতেই ওই যুবকের বাড়িতে দলবল নিয়ে চড়াও হয় গাছের মালিক। প্রথমে মারধর, পরদিন গলায় জুতোর মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরানো হয় ওই যুবককে। এতেই ক্ষান্ত হয়নি তারা।

ওই যুবকের মাথা ন্যাড়া করে মুখে চুনকালি লাগিয়ে গ্রামে ঘোরানোর পরিকল্পনাও নেয় তারা৷। শুক্রবার সকালেই তারা এই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই এই অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছে ওই পরীক্ষার্থী। এদিন সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রতুয়া থানার দেবীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাকাইয়া ২ নম্বর কলোনি এলাকায়। এই ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে রতুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃত যুবকের বাবা লাল মহম্মদ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, মৃতের নাম সাহিন আখতার (১৮)।

স্থানীয় একটি স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছিল সে। শুক্রবার সকালে ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এরপরেই গোটা এলাকায় প্রবল উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে রতুয়া থানার পুলিশ সাহিনের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। সাহিনের আত্মীয় মহম্মদ জালালুদ্দিন, হুমায়ুন রেজাদের অভিযোগ, গত পরশু সাহিন এলাকারই এক বাসিন্দা শামিমের গাছ থেকে দু’একটি আম ভাঙে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শামিমরা হুমকি দেয়, তাদের এই বিচার সাহিন না মানলে প্রয়োজনে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করেও তারা এই কাজ করবে। শুক্রবার সকালে শেষ পর্যন্ত সাহিন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয়। এই ঘটনায় সাহিনের বাবা লাল মহম্মদ শামিম আখতার, সাহাবুদ্দিন, সামশেরা বিবি ও সালেমা বিবি নামে চারজনের বিরুদ্ধে পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সাহিনের বাড়ির লোকজন কিংবা আত্মীয়রা কিছু না বললেও এক বন্ধু মহম্মদ সাদিকুল ইসলাম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শামিমের মেয়ের সঙ্গে সাহিনের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, দু’জনের এই সম্পর্ক শামিম মেনে নিতে পারেনি কখনও। তারা জন্য সাহিনকে এর আগেও হুমকি দিয়েছে। শামিমরা বড়লোক বলে সাহিনকে তারা পছন্দ করত না। গত বুধবার তাদের গাছ থেকে আম ভেঙে সাহিন শামিমদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়। তারা সাহিনকে নিজেদের বাড়ি ডাকে। সাহিন তাদের বাড়ি যেতেই তার উপর অত্যাচার শুরু হয়। তারা তাকে আরও বড় অপমানের জন্য তৈরি হতে বলে। এত অপমান সহ্য করতে না পেরে সাহিন শেষ পর্যন্ত আত্মঘাতী হয়েছে। এটা খুন৷

আমরা এর বিচার চাই বলে দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দা কাজী হেলাল। তিনি জানান, “আমি বিষয়টি শুনেছি যুবকটিকে গলায় জুতার মালা দিয়ে নাকি গ্রামে ঘোরানো হয়েছে। সে অপমান সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং দুঃখজনক ঘটনা। আমরা গ্রামবাসীরা চাই পুলিশ ঘটনার সঠিক তদন্ত করুক এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।” এই প্রসঙ্গে রতুয়া থানার ওসি কুনাল কান্তি দাস জানান, “আমরা চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” মৃত যুবকের পরিবার পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবের বক্তব্যের মধ্যে ফারাক রয়েছে। তবে আসল ঘটনা কি পুলিশি তদন্তের পর পরিষ্কার হয় যাবে।