পরিযায়ী শ্রমিকরা কি করোনা বাহক? আশঙ্কার বাতাবরণ বাড়ল বাংলায়

0

কৌশিক সালুই, বীরভূম :- পরিযায়ী শ্রমিকরা জেলাতে ঢুকতেই বদলে গিয়েছে করোনা ভাইরাস সংক্রামিত রোগীর চিত্র। হু হু করে বাড়ছে বীরভূমে রোগীর সংখ্যা। অন্যদিকে কোয়ারিন্টিন সেন্টার করা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। কোথায় সেই সমস্ত রোগীদের এবং অন্যান্যদের কোয়ারিন্টিনে রাখা হবে তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের। তবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই বাধা দূর করা হবে বলে দাবি প্রশাসনের।

ইতিমধ্যে বীরভূম জেলাতে প্রায় ২৬ হাজারের কাছাকাছি পরিযায়ী শ্রমিক চলে এসেছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনো পর্যন্ত প্রায় ৯০০০ পরিযায়ী শ্রমিকের দেহের লালা রস সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট প্রায় ৭ হাজার জনের এসেছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত বীরভূম জেলাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৩৫ জন হয়েছে। আরো হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক জেলাতে আসতে চলেছে। ফলে প্রচুর করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বীরভূম জেলাতে।

বীরভূম জেলাতে এখনও পর্যন্ত বোলপুরের গ্লোকাল হাসপাতালে এবং রামপুরহাট দুই জায়গা মিলিয়ে ৮০ শয্যার বেড রয়েছে করোনা রোগীদের জন্য। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে সনোকা হাসপাতালে ৫০০ শয্যা রয়েছে। যদিও সেটি সংলগ্ন আরো কয়েকটি জেলার জন্য। তাই বীরভূম জেলাতে সংক্রামিত রোগীর সংখ্যা বাড়লে তাদের রাখার বিকল্প ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। যে সমস্ত ব্যক্তিদের শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি আছে, অথচ লক্ষণ নেই তাদের জন্য পৃথক ভাবে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অন্যদিকে যে সমস্ত ব্যক্তিদের লক্ষণ আছে অথচ রিপোর্ট আসেনি তাদের জন্য ভিন্ন স্থানে থাকার ব্যবস্থা। একমাত্র ক্রিটিক্যাল রোগীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলিতে রেখে চিকিৎসা করা হবে। আর বাকিদের কে কোয়ারিন্টিন সেন্টারে রেখে চিকিৎসা করা হবে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৬৭টি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রয়োজন মতো দুটো থেকে চারটি পর্যন্ত কোয়ারিন্টিন সেন্টার করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও বিভিন্ন জায়গাতে স্থানীয় মানুষের সেই সেন্টার করা নিয়ে বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

প্রশাসনের দাবি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সেই সমস্যার সমাধাাান করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের মুখ্য পরামর্শদাতা অভিজিৎ সিনহা বলেন, “যে সমস্ত স্থানে কোয়ারিন্টিন সেন্টার করা ব্যাপারে বাধা আসছে সেটা আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে। যদিও সেই সংখ্যাটা খুবই কম।”

বীরভূম স্বাস্থ্য জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি বলেন, “উপসর্গের ভিত্তিতে করোনা সংক্রামিত রোগীদের ভিন্ন স্থানে রাখার ব্যাপারে প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে এবং তাদের রাখার স্থান চিহ্নিত করণ করা হচ্ছে।”