জামাই ষষ্ঠী গিয়েও রক্ষা নেই, সংক্রমণকারীর বাড়িতে আমন্ত্রণে গিয়ে আক্রান্ত জামাই

0

মাধব কুমার, মালদা: করোনার কোপ জামাইষষ্ঠীতেও। জামাইবাবু আদরে খেল পাকা আম, হরেক রকম ফল। কিন্তু শাশুড়ির রান্না করা ১৪ দিন ধরে পেটপুরে ভোজন করতে হবে ভাবতে পারেনি মেয়ে-জামাই। উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে মালদহের চাঁচল ১ নং ব্লকের মতিহারপুর জিপির প্রত‍্যন্ত গ্রামের এক পরিযায়ী শ্রমিকের দেহে করোনা হদিস পাওয়া গিয়েছে। এই খবর চাউর হতেই আতঙ্ক সৃষ্টি হয় গোটা চাঁচল এলাকায়।

কারণ ব্লক এলাকায় এই প্রথম। আর এই ঘটনার ফাঁদে পড়ে শ্বশুর বাড়িতেই আটকে গেল জামাইবাবু। পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢিল ছোড়া দূরত্ব গ্রাম কলিগ্রাম জিপির এক গ্রামে মেয়ের বিয়ে হয়েছে। আর ফাঁকা মাঠ পেরিয়েই মেয়ে-জামাই বৃহস্পতিবার জামাইষ্ঠীতে সংক্রমণকারীর বাড়িতে আসে। তবে শনিবার গ্রামের বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল জামাইয়ের। আর যাওয়া হল না। পুলিশ সূত্রে জানা যায় ওই পরিবারে সংক্রমণকারীর বোন-জামাই-ভাগ্না, ভাগ্নি, স্ত্রী-পুত্র-কন‍্যা ও মা-বাবা সহ আক্রান্ত বাদে ৮ জন সদস‍্য আছে।

পুরো বাড়িটি কনন্টেইমেন্ট জোন করা হয়েছে এবং ১৪ দিন কাউকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন চাঁচল থানার আই.সি সুকুমার ঘোষ। সূত্রের খবর, শনিবার কনন্টেইনমেন্ট জোনে থাকা ওই পরিবারের সকলেরই সোয়াব টেস্ট করা হবে। এদিন আক্রান্তকে হরিশ্চন্দ্রপুর আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর।

আক্রান্ত ব‍্যক্তি ফোন মারফত জানায়, ২০ মে হায়দ্রাবাদ থেকে অন‍্য শ্রমিকদের সাথে লরি ভাড়া করে বাড়ি ফিরেছিলেন এবং মালদাতেই সোয়াব টেস্ট করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই দিনই রাতে গ্রামে এসে সোজা স্থানীয় স্কুলের কোয়ারান্টিন সেন্টার নিজেকে বন্দী করেন। টানা সাতদিন কোয়ারান্টিনে থাকার পর ২৭ মে বুধবার নিজ গৃহে ফিরে যান।

আর বাড়ি গিয়েই একমাত্র বোন-জামাইকে প্রতিবারের মতো জামাইষ্ঠীতে আমন্ত্রণও করেন। শেষে বোন জামাই সহ পরিবারের সবাইকে কনটেন্টমেন্ট জোনে ফেললেন আক্রান্ত। এই ঘটনার উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মতিহারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পপি দাস। তিনি জানান, “ওই পরিবারে আট জন সদস‍্য এখন কনন্টেইনমেন্ট জোনে। তাদের খাদ‍্য জোগানে কোনো খামতি না থাকে তা আমরা দেখছি।”