করোনা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে খাবার পৌঁছাতে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীদের হাতে আক্রান্ত তৃণমূলের যুব যোদ্ধা

0

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর: ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলে আক্রান্ত যুব যোদ্ধা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে খাবার পৌঁছাতে গিয়ে বিজেপির দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হন তৃণমূলের যুব যোদ্ধা। অবশেষে রাতে পুলিশ ও বিডিওর হস্তক্ষেপে খাবার দেওয়া হয় কোয়ারেন্টাইনের আবাসিকদের।

অভিযোগ উঠেছে এলাকার বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। সনু প্রামানিক, পিতা লক্ষিন্ধর প্রমানিক, গ্রাম তালাই, বাঁকড়া পাথরা ৬ নম্বর অঞ্চলে। বুধবার রাতে বাঁকড়া কর্মতীর্থ কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে খাবার পৌঁছাতে যাওয়ার সময় মারধর করে বিজেপির কর্মীরা, এমনটাই অভিযোগ। ওই কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে ১০ জন রয়েছেন। আক্রান্ত যুব যোদ্ধা সনুর বাবা দীর্ঘদিনের তৃনমূল কর্মী। তাই সনুও যুব যোদ্ধা দলে নাম নথিভুক্ত করে। করোনা সেন্টারে খাবার পৌঁছানোর কাজে প্রাথমিক ভাবে কেউ রাজি না হওয়ায় সমস্যায় পড়েন করোনা সেন্টারের আবাসিকরা। যুব যোদ্ধা হিসেবে সনু এগিয়ে আসেন আক্রান্তদের খাবার পৌছানোর জন্য।

সরকারি নিয়ম মেনেই খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ করতে থাকে সে। করোনা আক্রান্তদের খাবার পৌছানো যাবেনা এই দাবিতে বুধবার সন্ধ্যাবেলা খাবার পৌছানোর সময়, হঠাৎ করেই বিজেপির বেশ কয়েকজন তাকে এই কাজে বাঁধা দেয়। বেধড়ক মারধর করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। সিভিকরা আটকাতে এলে তারাও আক্রান্ত হন। এরপরে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের খবরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় সনুকে উদ্ধার করে প্রথমে গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারপরে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটিতে পাঠানো হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হলে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।

এই ব্যাপারে বিজেপির জেলা সভাপতি সুখময় সৎপথি জানান গ্রামে কি হয়েছে বলতে পারবো না। দলের কেউ যদি খারাপ কাজে যুক্ত থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃনমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র ও প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ উমা সরেন জানান তিনি পুলিশকে ব্যাবস্থা নিতে বলেছেন। দোষীদের গ্রেপ্তার করতে বলেছেন। যাতে জঙ্গলমহলে কেউ অশান্তি বাঁধাতে না পারে তা দেখার কথা বলেছেন তিনি।
ঘটনায় পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।