নকল ভারতীয় পরিচয়ে রাজ্যে থাকা বাংলাদেশি নারীকে গ্রেফতার করল পুলিশ

0

নিজস্ব সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: ভারতীয় পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল ভারতের আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড, স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট সমস্ত দেখিয়ে। খড়গপুর ওয়ার্কশপে কর্মরত এক যুবককে বিয়ে করে চলছিল জমজমাট সংসারও কিন্তু শেষরক্ষা হলনা। বুধবার দুপুরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে খড়গপুর টাউন থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করল ভারতীয় নাগরিকের ছদ্মবেশে থাকা এক বাংলাদেশি নারীকে।

ওই বিদেশিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে খড়গপুর পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ড ভবানীপুর এলাকার দেবলপুর থেকে। পুলিশ জানিয়েছে, ১৯৪৬ সালের বিদেশী নাগরিকত্ব আইন এবং ১৯৬৭ সালের ১২ পাসপোর্টে আইন সহ আরও কয়েকটি ধারায় মামলা রুজু করে বুধবারই আদালতে পেশ করার পর আরও জিজ্ঞাসা বাদের করার উদ্দেশ্যে পাঁচ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতের নিয়েছে পুলিশ।
ধৃত বাংলাদেশিনীর নাম জুলি দাস এমনটাই জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। জুলির বিয়ের আগে পদবি ছিল দে। ওই মহিলা ২০১৮ সালের আগে ভারতে আসে এবং এখানেই থেকে যায়। তাঁর একটি বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছিল যার মেয়াদ ২০১৮ সালের জুলাই মাসেই শেষ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই ভবানীপুরের দেবলপুরের বাসিন্দা দেবাশিস দাস নামে এক যুবককে বিয়ে করে জুলি। দেবাশিস রেলের ওয়ার্কশপে কাজ করে। বিয়ে করার পর জুলি ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড, প্যান কার্ড, আধার কার্ড এমনকি স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট নিজের নামে বানিয়ে ফেলে।

সমস্ত তথ্য এখুনি পুলিশের হাতে আসেনি কারণ তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। জুলির মা জ্যোৎস্না রানী দে সম্ভবত বাংলাদেশেই থাকে বলে মনে করা হচ্ছে। মায়ের সঙ্গে দেখা করা কিংবা অন্য কারনে বাংলাদেশ যেতে চাইছিল জুলি আর সেই কারনে সে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট বানানোর উদ্যোগ নেয়। ওই সমস্ত নথিপত্রের ভিত্তিতে জুলি সেই পাসপোর্ট পেয়েও যায়। যদিও ভারতের পাসপোর্ট পরিষেবার কলকাতা আঞ্চলিক কেন্দ্র জুলির দেওয়া তথ্যগুলি তখনও ভেরিফেকশন চালাচ্ছিল। এই ভেরিফেকশন সময়েই পাসপোর্ট অফিসের কর্তারা জুলির দেওয়া নথিগুলি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। ২০১৯ এর আগস্ট মাসে এই ভেরিফিকেশন পর্বেই বোঝা যায় নথেগুলি নিয়ে সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাই পাসপোর্ট অফিসের কর্তারা বিষয়টি পশ্চিম মেদিনীপুর গোয়েন্দা পুলিশ ডিআইবিকে জানান।

ডিআইবি প্রাথমিক তদন্ত করে নিশ্চিত হওয়ার পর ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ডিআইবির এক সাব ইন্সপেক্টর অমিত অধিকারী একটি মামলা দায়ের করেন খড়গপুর পুলিশের কাছে। তারপরেই খড়গপুর পুলিশ বিস্তারিত তদন্ত ও খোঁজ খবর নিতে থাকে। তবে তারমধ্যে করোনা এবং লকডাউন শুরু হয়ে গেলে পুলিশ সেই কাজে ব্যস্ত হয়ে যায়। কয়েকদিন যাওয়ার পর অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হলে ফের মামলাটি নিয়ে আবারও তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অবশেষে বুধবার গ্রেপ্তার করা হয় জুলিকে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান বাবার মৃত্যুর পর মায়ের সাথে ভারতে আত্মীয়দের কাছে এসেছিল জুলি। তারপরেই ভারতীয় ছেলের সঙ্গে জুলির বিয়ে দিয়ে জুলির মা বাংলাদেশ চলে যান বা এদেশেই অন্য কোথাও রয়েছেন। পুলিশ সেটাও খতিয়ে দেখছেন।

পুলিশের আরও অনুমান অনুমান নাবালিকা থাকার সময়েই জুলির বিয়ে হয়েছিল এবং সম্ভবতএখনও সে নাবালিকাই। জুলিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পুলিশ সমস্ত কিছুরই হদিস পেতে চাইছে। কি উপায়ে জুলি ভারতীয় পরিচয় পত্র ও বাকি নথিগুলি জোগাড় করেছিলেন তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন এক পুলিশ আধিকারিক।