“আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব,” শুভেন্দুর দলত্যাগের জল্পনা প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয়

0

হাবড়া : সাম্প্রতিক রাজ্য রাজনীতি সরগরম রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে। তৃণমূলের এই তাবড় নেতার থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তাঁর একাধিক দায়িত্ব। আর এরপরই জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে এই নেতার বিজেপিতে যোগদানের। বারংবার সংবাদমাধ্যমে এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রবিবার বাংলার একটি সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুভেন্দুর বাবা তৃণমূল সাংসদ শিশির অধিকারী ছেলের বিজেপিতে যাওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দেন।

শিশির অধিকারীর পাশাপাশি রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকও শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদানের বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ওঠা জল্পনা নস্যাৎ করেন। মঙ্গলবার শুভেন্দুর দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “এরা একটা ফেসবুক পেয়েছে, যা পাচ্ছে দিয়ে দিয়েছে। কালকে শুভেন্দু খুব পরিষ্কার ভাষায় বলেছে, ওর বাবা সাংসদ শিশির অধিকারীও বলে দিয়েছে, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকল্প কোনও রাস্তা নেই।”

বিজেপকে আক্রমণ করে মঙ্গলবার তিনি হাবরায় বলেন, আমাদের নেত্রী সততা, নিষ্ঠা, ত্যাগ, তিতিক্ষাকে অবলম্বন করে কাজ করেন। চেষ্টা করে দেখুক আগে। আমরা চাইছি দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, তথাগতরা প্রথমে জোতিপ্রিয়দের সঙ্গে লড়াই করে দেখুক। তারপর তৃণমূলকে নিয়ে ভাববে। প্রসঙ্গত, শিশির অধিকারী স্পষ্ট ভাষায় জানান, “শুভেন্দুকে নিয়ে অপপ্রচার হচ্ছে। অধিকারী পরিবার বেইমান নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমরা কাজ করছি।” সেখানেই থেমে যাননি বর্ষীয়ান সাংসদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “ওনার মত নেত্রী আমি খুব কমই দেখেছি। শুভেন্দুও শক্তিশালী নেতা। শুভেন্দু নাবালক নয়। তাকে নিয়ে কেন এত অপপ্রচার হচ্ছে তা ওকে জিজ্ঞেস করলে উত্তর পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও বলেন, দলের সর্বোচ্চ নেত্রী যে নির্দেশ দেন অধিকারী পরিবার তা মেনে চলে। তাদের পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাসের উল্লেখ করে শিশির অধিকারী বলেন, “বরকতদার সঙ্গে কংগ্রেস করতাম। পরে তৃণমূলে চলে আসি। কংগ্রেস আর করা যাচ্ছিল না। এখন তৃণমূল ছাড়া নিয়ে কারা গুজব রটাচ্ছে আমি তো বুঝতেই পারছি না।”

২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাওড়ার একটি অনুষ্ঠান থেকে আগামী প্রজন্মের উদ্দেশ্যে মমতা ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করবেন শুভেন্দু অধিকারী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, সেখান থেকেই শুভেন্দু ও অভিষেকের সংঘাত শুরু। সেই কারণেই বারংবার শুভেন্দুর দলত্যাগের জল্পনা শুরু হয়েছে। রবিবার শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী এবং মঙ্গলবার রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এক কথায় তা খারিজ করে দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here