লোডশেডিংয়ের সমস্যা থেকে মিলল মুক্তি, চালু হল বিদ্যুতের সাবস্টেশন

0

মাধব কুমার, মালদা: দীর্ঘদিন ধরে লোডশেডিংয়ের সমস্যায় জেরবার ছিল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরবাসি। একই সঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুরের বেশিরভাগ এলাকাতে ঠিকভাবে ভোল্টেজও থাকতো না, অল্প বৃষ্টিতেই চলে যেত কারেন্ট। আর একবার পাওয়ার কাট হয়ে গেলে আসতে দীর্ঘক্ষন সময় লাগতো। কারণ সামসি থেকে দীর্ঘ ৩৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে লাইন আসতো মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে। ফলে অল্প ঝড়-বৃষ্টিতে হয়ে যেত সমস্যা। আট থেকে আশি এলাকার সকলে অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল লোডশেডিং- এর সমস্যাতে।

এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল হরিশ্চন্দ্রপুরে সাব স্টেশন চালু করার। অবশেষে তাদের সেই দাবি পূরণ হল। বৃহস্পতিবার হরিশ্চন্দ্রপুর ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশন চালু করা হলো বিদ্যুৎ দপ্তররের পক্ষ থেকে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচল হরিশ্চন্দ্রপুরবাসি। এবার হয়তো আর লোডশেডিং নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না, ভোল্টেজ ও ঠিক থাকবে। আর দীর্ঘদিনের এই দাবি পূরণ হওয়াই স্বভাবতই খুব খুশি এলাকার সকল মানুষ। দুর্গা পুজোর আগে এটাকে বিদ্যুৎ দপ্তরের উপহার বলে মনে করছেন তারা। তমাল রায় নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে লোডশেডিং এবং ভোল্টেজের সমস্যা নিয়ে আমরা বাস করেছি। এই সমস্যার জন্য বহু বছর ধরে আন্দোলন করেছি আমরা। তাই আজ আমরা ভীষণ খুশি।”

হরিশ্চন্দ্রপুরের বিদ্যুৎ দপ্তরের ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার প্রদীপ দাস বলেন, “সামসি থেকে লাইন আসতে বহু সমস্যা হতো। কিন্তু এবার ১৩২/৩৩ কেভি লাইন চালু হয়ে যাওয়ার ফলে আর সামসির উপর ভরসা করে থাকতে হবে না।” এদিকে এই সাব স্টেশন চালু হওয়ার জন্য অনেকেই অভিনন্দন জানিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের ভূমিপুত্র বিখ্যাত গায়ক তথা তৃণমূল নেতা সৌমিত্র রায়কে। স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী শামীমা রহমান জানিয়েছেন, “বেশ কিছু বছর আগে আমি সৌমিত্র বাবুর সঙ্গে তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তর কাছে গিয়েছিলাম। সেখানে তিনি হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার জন্য ১৩২/৩৩ কেভি সাবস্টেশনের দাবি রেখেছিলেন। এই প্রকল্পটি চালু হওয়ার ফলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যা মিটলো। তাই আমরা হরিশ্চন্দ্রপুরবাসি হিসেবে সকলেই সৌমিত্র রায়-এর কাছে কৃতজ্ঞ।

যদিও এই নিয়ে তৃণমূল নেতা সৌমিত্র রায় এবং হরিশ্চন্দ্রপুরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল নেতা তাজমুল হোসেনের মধ্যে কিছুটা তরজা লক্ষ্য করা গিয়েছে।” তাজমুল হোসেন বলেন, “আমি বিধায়ক থাকাকালীন বিধানসভায় হরিশ্চন্দ্রপুরে সাব স্টেশন চালু করার দাবিতে বহুবার সওয়াল করেছি। তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্তর সঙ্গেও এই নিয়ে আমার বিস্তারিতভাবে কথা হয়েছিল। বর্তমান বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও সাবস্টেশনের কাজ নিয়ে কথা বলার জন্য আমি দেখা করি। অবশেষে আজ সেই কাজ সম্পন্ন হলো। হতে পারে সৌমিত্র বাবু উনার মত চেষ্টা করেছিলেন।”

তিনি আরো বলেন, “এর জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমাদের কান্ডারী মমতা ব্যানার্জিকে। কারণ মমতা ব্যানার্জি যেখানে উন্নয়ন সেখানে।” সৌমিত্র রায়-এর কথায় এর আগের বিদ্যুৎমন্ত্রী মণীশ গুপ্ত সঙ্গে ওনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুব ভাল ছিল। সেই সূত্রে উনি বহুবার হরিশ্চন্দ্রপুরে সাব স্টেশন চালু করার জন্য বলেছিলেন। পরে তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও এই নিয়ে কথা বলেন তিনি।” পাশাপাশি তাজমুল বাবুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যেই সময় আমি এখানে সাবস্টেশন চালু করার ব্যাপারে মণীশ গুপ্তর সঙ্গে কথা বলি তখন উনি আমাদের দলে ছিলেন না। সিপিএম করতেন। তবে হ্যাঁ উনি যদি ওনার মত করে চেষ্টা করে থাকেন কৃতজ্ঞতা ওনারও প্রাপ্য। তবে সবথেকে বড় কথা দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান হওয়াই হরিশ্চন্দ্রপুরের সকলেই আজ আমরা খুব খুশি।”

সত্যিই হরিশ্চন্দ্রপুরবাসী আজ খুশি কারণ এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যার আজ সমাধান হলো। দীর্ঘদিনের দাবি আজ পূরণ হলো। আর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ার আনন্দটাই যে আলাদা। সেই আনন্দে এই মুহূর্তে মাতোয়ারা আপামর মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরবাসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here