বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার খুনের ঘটনায় গ্রেফতার দুই, ব্যক্তিগত শত্রুতাতেই খুন হয়েছেন বিজেপি নেতা

0

কলকাতা: বিজেপি-র ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার সদস্য এবং পেশায় আইনজীবী মণীশ শুক্লা রবিবার হাওড়ার এক দলীয় সভায় গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরেই টিটাগড় থানার পাশে বিটি রোডের ওপর দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলেন। বসে থাকার সময় বাইকে আসা কয়েকজন দুষ্কৃতি তাঁকে লক্ষ করে কয়কটি গুলি চালায়। সেখানেই লুটিয়ে পড়েন বিজেপি নেতা। গুলি লাগে ঘাড় ও মাথায়। রক্তাক্ত অবস্থায় এই জেপি নেতাকে ব্যারাকপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা খারাপ দেখে পরে সেখান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতায় বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় দু জনকে গ্রেফতার করেছে তদন্তকারীরা।

মণীশ শুক্লার খুনের তদন্তের ভার গিয়েছে সিআইডি-এর উপর। সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে তদন্ত। ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই খুন হতে হয়েছে ৩৯ বছর বয়সী বিজেপি নেতাকে এমনটাই খবর সিআইডি সূত্রে। গ্রেফতার দুই ব্যক্তির নাম মহম্মদ খুররম খান, গুলাব শেখ। এরা ছাড়াও আরও সাত জনের নামে খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০১০ সালে খুররমের বাবাকে খুনে বিজেপি নেতা মণীশের নাম জড়িয়েছিল। এমনটাই দাবি পুলিশ সূত্রে। রাজনৈতিক কারণে নাকি ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে খুন করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখছে সিআইডি। তবে সিআইডি অনুমান করছে রাজনৈতিক শত্রুতা নয় বরং ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই খুন হতে হয়েছে মণীশ শুক্লাকে। তদন্তে জানা গিয়েছে শত্রুতা বেশ অনেকদিন ধরেই নজর রাখছিল বিজেপি নেতার উপর।

প্রসঙ্গত, বিজেপি নেতা খুন হওয়ার সময় তাঁর দেহ রক্ষীরা সকলেরই ছিলেন এক সপ্তাহের ছুটিতে। পাশাপাশি যে জায়গায় খুন হন সেখানের সিসিটিভি ভাঙ্গা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। রবিবার দেহ রক্ষীরা না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়েছিল দুষ্কৃতিরা। গ্রেফতার দু জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকিদের হদিস পাওয়ার চেষ্টা চলছে। উল্লেখ্য বিজেপি নেতা খুনের পর সোমবার ব্যারাকপুরে ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডাকে বিজেপি। সেই সঙ্গে ব্যরাকপুর টিটাগড় সহ পার্শ্ববর্তী এলাকা রণক্ষেত্রে চেহারা নেয়। বিক্ষোভ দেখাতে থাকে বিজেপি সমর্থকরা। পাশাপাশি এনআরএস-এ বিজেপি নেতার দেহ নিয়ে আসাকে কেন্দ্র করেও ঝামেলার সৃষ্টি হয়। ঝামেলা মিটিয়ে সব বাধা পেরিয়ে সোমবার রাতে মণীশ শুক্লার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় রাসমণি ঘাটে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here