সারা দেশ চাকরি শূন্য, সেখানে বাংলা নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র খুলে দিচ্ছে: মমতা

0

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর: যে জমিতে কোনোদিন কিছু হয়নি, বছরের পর বছর ধরে ডাহি, পতিত হয়ে পড়ে রয়েছে সেই জমিই এবার আয়ের পথ খুলে দেবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে। কর্মসংস্থান হবে লক্ষ লক্ষ মানুষের। মঙ্গলবার খড়্গপুরে প্রশাসনিক সভা থেকে ‘মাটি সৃষ্টি প্রকল্পের ‘ উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। খড়্গপুর শিল্প তালুকের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য আরো ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা এদিন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখানে টাটা মেটালিক্স ও উড়িষ্যা মেটালিক্সকে ২০০ একর জমি দেওয়া হয়েছে। তারা ২৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে। প্রায় ৮ হাজার মানুষের চাকরি হবে।

সারা দেশে যেখানে চাকরি শূন্য হয়ে যাচ্ছে সেখানে বাংলা নতুন নতুন চাকরির ক্ষেত্র খুলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধায়ক ও ট্রেড ইউনিয়ন গুলিকে খড়্গপুর শিল্প তালুকে শিল্পের সুষ্ঠ পরিবেশ বজায় রাখার দিকে নজর রাখতে বলেছেন তিনি। ৭ মাস আগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীব সিনহার উদ্যোগে মাটি সৃষ্টি প্রকল্পে সিলমোহর দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন তিনি রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান। তাঁকে পাশে বসিয়েই মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই প্রকল্পের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, মূলত বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম জেলার যেসব জমি ডাহি, পতিত হয়ে পড়ে রয়েছে, কোনো চাষ হয় না সেই ধরনের জমিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জলের ব্যবস্থা করে, বীজ, সার, প্রযুক্তি সরবরাহ করে, কৃষককদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ওই জমিকেই আয়ের উপযোগী করে তোলা হবে। ৬ থেকে ৭ টি দপ্তর একসঙ্গে কাজ করবে।

রাজীব সিনহা জানান, সারা রাজ্যে ৫০ হাজার একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুরে ৬ হাজার এককের মধ্যে ১৯৪৫ একর জমিতে কাজ শুরু হয়েছে। এই জেলার ৮ হাজার কৃষক ঊপকৃত হবেন পরে তা আরো বাড়বে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন করোনায় মৃত মেদিনীপুরের চিকিৎসকের স্ত্রীর হাতে, হাতির হানায় নিহতদের পরিবারের ১ জনকে, মাওবাদীদের হাতে খুন হওয়া পরিবারের সদস্যের হাতে চাকরির নিয়োগ পত্র তুলে দেন। গড়বেতার মা সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুরোহিত ধনঞ্জয় সিদ্ধান্তের হাতে পুরোহিত ভাতার চেক তুলে দেন।প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, জঙ্গলমহলে মাওবাদীদের হাতে যাঁরা খুন হয়েছেন, গত ১০ বছরে যাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি, তাঁদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে এবং পরিবারের ১ জনকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হচ্ছে। হাতির আক্রমনে যাঁরা মারা যাচ্ছেন তাঁর পরিবার আড়াই লক্ষ টাকা করে পাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের একজনকে স্পেশাল হোমগার্ডের চাকরি দেওয়া হচ্ছে।

মাওবাদী সন্ত্রাস মোকাবিলায় জঙ্গলমহলের বেশ কিছু যুবক যুবতীকে জুনিয়র কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের প্রমোশন দেওয়া হচ্ছে। মাওবাদী অধ্যুষিত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর , ঝাড়গ্রাম জেলার ৪২৮৪ জন এর ফলে উপকৃত হবেন। বেলা আড়াইটা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী হেলিকপ্টারে সভা স্থলের কাছে নামেন। বিকেল ৩ টে থেকে সভা শুরু হয়। বিকেল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত চলে। এদিনের প্রশাসনিক সভা করোনা বিধি মেনে করা হয়েছ। মূল মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব, সরাষ্ট্র সচিব সহ ৬ জন আধিকারিক ছিলেন। মূল সভায় আধিকারিক, বিধায়ক, সাংসদ মিলিয়ে ১৫৬ জন ছিলেন। বাকিরা ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন। একাধিক স্যানিটাইজার ট্যানেল করা হয়েছিল। যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে চাকরির নিয়োগপত্র বা ভাতা নিয়েছেন তাঁদের ৩ ঘন্টা আগে করোনা নেগেটিভ হওয়ার পরই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here