শিশু বিক্রির ঘটনায় চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে, নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করল পুলিশ এবং চাইল্ডলাইনের কর্তারা

0

পার্থ খাঁড়া, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডে দিনে-রাতে চলছে বাচ্চা বিক্রি। এই অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। ঘটনা সুত্রে জানা যায় মেদিনীপুরের এই ২৩ নাম্বার ওয়ার্ডের হরিজন পল্লীতে গত কয়েকদিন আগে একটি আট মাসের বাচ্চা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর এলাকাবাসী কয়েকদিন ধরে খোঁজ করার পর তার বাবা মাকে জিজ্ঞাসা করলে তার বাবা-মা কোন উত্তর দেয় না। তারা বলে বাচ্চাকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে। এরপর তারা বিষয়টি নিয়ে এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলার সহ থানায় জানালে পুলিশ খোঁজখবর শুরু করে। অবশেষে পুলিশ এবং চাইল্ডলাইনের কর্তারা বাচ্চাটিকে উদ্ধার করে পাশের পাড়ার একটি বাড়ি থেকে।

ফুটফুটে আট সাড়ে আট মাসের এই কন্যা শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবা মাকে ডেকে পাঠায় কিন্তু সেই সময় বাবা-মা বাড়িতে না থাকায় বাচ্চাটাকে নিয়ে আসা হয় মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে কোরোনা টেস্ট এর জন্য। সেখানে টেস্টের পর অফিসে নিয়ে আসা হয় এবং বাচ্চাটির বাবা-মা তার সঠিক তথ্য প্রমাণ না দিতে পারায় তাকে পাঠানো হয় হোমে। হোমে বাচ্চাটির দেখভাল করা হচ্ছে। বাবা মায়ের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে আটক করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ এর আগেও এর ধরনের আরও দুটি বাচ্চা বিক্রি করেছে ওই মহিলা। যেহেতু ওই মহিলার স্বামী নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সারাদিন ঘুরে বেড়ায়, সেই সুযোগে এই মহিলা ফন্দি করে গর্ভবতী হয় এবং গর্ভবতী হওয়ার পর বাচ্চাকে বিভিন্ন জায়গায় চড়া দামে বিক্রি করে দেয়। ওই মহিলার দোষ রয়েছে। এলাকার বাসিন্দা বলেন ওই মহিলার চরিত্রে দোষ রয়েছে। ছেলেটা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পরে থাকার পর মহিলা যেখানে সেখানে গর্ভবতী হয় এবং তার পর বাচ্চাকে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেয়।

এর আগেও আরো দুটো বাচ্চা বিক্রি করে দিয়েছে বলে আমরা শুনেছি। এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলার সুমিতা বেরা বলেন কিছুদিন ধরে এলাকায় শুনতে পাচ্ছিলাম একটি বাচ্চা কিছুদিন ধরে মিসিং রয়েছে। এরপর ওই বাচ্চার মা ও বাবা বিভিন্ন খাবার কিনে বাড়িতে খাওয়ার সময়ে এলাকা বাসির সন্দেহ হয়। তারা তখন ঐ বাচ্চার বাবা মাকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে বাচ্চা টিকে ২০ হাজার টাকায় এক মুসলিম দম্পতিকে বিক্রি করে দিয়েছি। ৫ হাজার টাকা এনেছি বাকি টাকা আনবো। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষ পুলিসে জানায়। এরপর পুলিশ এবং শিশু নিরাপত্তা আধিকারিকরা বিষয়টি খতিয়ে দেখার পর বাচ্চাটিকে তার পাশের পাড়ার একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।

এরপর বাচ্চাটি নিয়ে আসা হয় বিদ্যাসাগর বালিকা ভবনের এডাপশন বিভাগে। এই বিষয়ে জেলা শিশু নিরাপত্তা আধিকারিক বলেন আমরা একটা অভিযোগের ভিত্তিতে মেদিনীপুর শহরের ওই টিভি টাওয়ার মাঠ সংলগ্ন হরিজন পল্লী থেকে বাচ্চাটি উদ্ধার করেছি। বাচ্চাটি উদ্ধার করার সময় তার মা বাবা না থাকায় বাচ্চাটাকে আমরা নিয়ে এসেছি অফিসে। পরে ওই বাচ্চার মা বাবা নিজের বাচ্চা বললে আমরা তাদের পরিচয় পত্র আনতে বলেছি কিন্তু তারা পরিচয় পত্র দেখাতে পারেনি এবং এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে মা-বাবাকে আটক করেছে পুলিশ। আমরা বাচ্চাটিকে হোমে রেখেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here