কথা রাখলেন শুভেন্দু, ১৭ টি পরিবারকে দিলেন নতুন বাড়ি

0

পার্থ খাঁড়া, ঝাড়গ্রাম: প্রতিবছর ৭ জানুয়ারি লালগড়ের নেতাই গ্রামে নেতাইয়ের শহীদ বেদীতে মাল্যদান করার জন্য ছুটে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু এই বছর শহীদ বেদীতে মাল্যদান করার পর নেতাই গ্রামের মধ্য দিয়ে হেঁটে গিয়ে নেতাইয়ের কমিউনিটি হলে নেতাই গ্রামবাসীদের নিয়ে দীর্ঘক্ষন আলোচনায় বসছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেদিন কেউ কাজের জন্য দাবি জানান, কেউ আবার বাড়ি সহ আরও অনেক কিছু অভাব-অভিযোগের কথা জানান শুভেন্দু অধিকারীকে। ৭ জানুয়ারি আলোচনার পর কথা রাখলেন শুভেন্দু। নেতাইয়ের গ্রামবাসীদের হাতে এদিন নেতাই শহীদ স্মৃতিরক্ষা কমিটির ব্যবস্থাপনায় নেতাই শহীদ স্মৃতি রক্ষা বেদীর কাছে নেতাই গ্রামবাসীদের মধ্যে ৫২ জন মহিলার হাতে সেলাই মেশিন এবং ১৭ জন পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন।

কিছুদিন আগেই করোনা জয় করে সুস্থ হয়েছেন শুভেন্দু তাই এদিন তিনি দীর্ঘক্ষণ বক্তব্য রাখেননি বিশেষ কিছু কথা বলেই তার বক্তব্য শেষ করেন। এদিন তিনি প্রথমে শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে মঞ্চে কিছুক্ষণ বক্তব্য রাখার পর কাউকে বাড়ির চাবি, কাউকে সেলাই মেশিন এবং শহীদ পরিবার কে পূজার নতুন বস্ত্র উপহার হিসেবে তুলেদেন। নেতাই গ্রামে একটি নতুন বাড়ির উদ্বোধন করেন তিনি। শুভেন্দু এদিন বলেন, “এবছর যখন শহীদ বেদিতে পুষ্পাঞ্জলি দিতে এসেছিলাম তখন দেখেছিলাম শহীদ পরিবার, আহত পরিবার যারা কেশে সাক্ষী দিচ্ছে তাঁদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ। সেদিন প্রোগ্রাম শেষ করে তাঁদের এখানকার কমিউনিটি সেন্টারে আলোচনায় বসি।”

তিনি আরও বলেন, “সেদিন আমি প্রত্যেকের বক্তব্য নোটডাউন করে ছিলাম। সেদিন আট জন কর্মসংস্থানের কথা বলেছিলেন। আমি পাঁচ জনের ছোটখাটো কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তিন জনের বয়সের জন্য করতে পারিনি তাঁদের নিয়ে আমি পরে ভাপবো। সেদিন আমি ৫৯ জন মহিলাকে সেলাই মেশিন দেবো বলেছিলাম পরে আরো দুজন বাড়ে এদিন মোট ৫২ জনকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়।  এখানে অনেকেই  বাড়ি পাইনি বলে আমাকে অভিযোগ করেন আমি সতীশ সামন্ত ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে বাড়ি তৈরি করে দিয়েছি। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও শহীত, আহত পরিবারের হাতে পুজোর নতুন বস্ত্র উপহার হিসেবে তুলে দেবো।”

সেলাই মেশিন পেয়ে নেতাই গ্রামের বাসিন্দা সবিতা ঘড়াই বলেন, “সেলাই মেশিন পেয়ে খুবই ভালো লাগছে কিন্তু তো কাজ বিশেষ কিছু জানিনা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিলে খুবই ভালো হয়। এছাড়াও চিত্ত দাস নামে নেতাই গ্রামের এক বাসিন্দা নতুন বাড়ি পেয়ে তিনি বলেন, খুবই ভালো লাগছে দাদা আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছেন এইভাবেই সারাজীবন দাদাকে পাশে পেতে চাই। এদিন শুভেন্দু বলেন, আমাকে আমার লক্ষ্য থেকে ,আমার কর্ম পদ্ধতি থেকে, আমার দায়বদ্ধতা থেকে কেউ আমাকে সরিয়ে দিতে পারেনি ভবিষ্যতেও পারবে না।”