কিষাণজির মৃত্যু দিবসের আগে জঙ্গলমহল থেকে তুলে নেওয়া হল কেন্দ্রীয় বাহিনী 

0

পার্থ খাঁড়া, ঝাড়গ্রাম: আগামী ২৪ নভেম্বর মাওবাদী শীর্ষনেতা কিষাণজির মৃত্যু দিবসের আগে জঙ্গলমহল থেকে দুই ব্যাটেলিয়ান কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ছত্রিশগড়ে পাঠানো হল। ২০১১ সালের ২৪ নভেম্বর জামবনি থানার বুড়িশোলের জঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে কিষেণজির মৃত্যু হয়। সেই থেকে প্রতিবছর মাওবাদীরা দিনটি পালন করে আসছে। এই সময় তারা কিষেনজির মৃত্যুর বদলা নেওয়ার  হুঁশিয়ারি দিয়ে পোস্টারও লাগায়।

গত কয়েক মাসের মধ্যে বেলপাহাড়ি বান্দোয়ান জামবনি ও বিনপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে মাওবাদীদের নামে লেখা বেশ কিছু পোস্টার। পুরুলিয়া থেকেও পুলিশ কিষানজীর মৃত্যুর বদলা নেওয়ার হুমকি মূলক পোস্টার উদ্ধার করেছে। ফলে এবছর কিছুটা ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুই ব্যাটেলিয়ানের ১৪ কোম্পানি অর্থাৎ সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০০ এক হাজার চারশো জওয়ান জঙ্গলমহল থেকে ছত্রিশগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। মাওবাদী ঝুঁকির পাশাপাশি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন।

এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জঙ্গলমহলে শান্তি রক্ষার দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের ঘাড়ে চাপিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জঙ্গলমহল ছেড়ে যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। জঙ্গলমহল থেকে ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী তুলে নেওয়ায় পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী শান্তিরাম মাহাতো ঘটনার পিছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন। একই অভিযোগ করে ঝাড়গ্রামের জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য কেন্দ্রীয় বাহিনী তুলে নিয়ে ভোটের আগে  জঙ্গলমহলকে ফের অশান্ত করতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, পুরুলিয়া এবং ঝাড়গ্রাম জেলার কেন্দ্রীয় বাহিনীর ছেড়ে যাওয়া ওই সব ক্যাম্প গুলির দায়িত্ব নিচ্ছে রাজ্য পুলিশ। জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া পুরুলিয়া ঝাড়গ্রাম জেলায় সিআরপিএফ ও কোবরা বাহিনী মিলে মোট সাত ব্যাটেলিয়ান কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। দুই ব্যাটেলিয়ান চলে যাওয়ায় বর্তমানে জঙ্গলমহলে পাঁচ ব্যাটেলিয়ান কেন্দ্রীয় বাহিনী রইল।