মোদীর পাঠানো টাকা ঝেড়ে গাড়ি-বাড়ি করছে, ফুটানি মারছে: শাসক দলকে আক্রমণ দিলীপের

0

কৌশিক সালুই, বীরভূম: “উনি যদি উন্নয়ন করে থাকেন তাহলে আজ ওনাকে দৌড়ে গিয়ে খাটিয়াতে বসতে হত না। বাঁকুড়ায় তিন দিন থাকতে হত না। উনি কি করেছেন লোককে ভরসা রাখুন লোক দুই বার বুঝিয়েছে। পঞ্চায়েতের গো হারা হারিয়েছেন, পার্লামেন্টেও হারিয়েছেন। ওনার যদি লাজ-লজ্জা থাকে তাহলে মিথ্যা কথা না বলেন”, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বাঁকুড়া সফরকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

বুধবার তিনি বীরভূমের সিউড়িতে দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এদিন সকালে তিনি শহরের এক এর পল্লীতে চায় পে চর্চা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন ও দুপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এছাড়া এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংসদ তথা যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ বাঁকুড়া সংসদ সুভাষ সরকার সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাঁকুড়ায় দলিত পরিবারের বাড়িতে ভোজন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর কটাক্ষের জবাবে পাল্টা বলেন, “ফাইভস্টার কালচার তো ওনাদের। জঙ্গলমহলের ফাইভ স্টার হোটেল নেই উনি যেনো মনে রাখেন। জঙ্গলমহল লোক খেতেই পায় না। এখানে পান্তা মুড়ি খেয়ে বেঁচে থাকে। আমরা ডাল ভাত আলু পোস্ত খেয়েছিলাম আপনারাও দেখিয়েছেন কারোর যদি চোখের দোষ থাকে আমার দোষ নয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমি জানি জঙ্গলমহল কি চায়, আমি জঙ্গলমহলের ছেলে বুঝিয়ে দিয়েছি জঙ্গলমহল এবার যেন গঙ্গার এপারে একটা সিট না পায়।” এছাড়া আম্ফান সহ বিভিন্ন প্রকল্পের কেন্দ্র সরকারের টাকা পাঠানো এবং তৃণমূল নেতাকর্মীদের সেই টাকা আত্মসাৎ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মোদীর পাঠানো টাকা সেই টাকা ঝেড়ে এরা গাড়ি-বাড়ি করছে। ফুটানি মারছে। আমি বলে দিচ্ছি শুনে রাখুন। মে মাসের পরে এই সমস্ত নেতাদেরকে ওই তিন তলা বাড়িতে থাকতে দেবো না ওই বাড়ির ভাত খেতে দেবো না হয় লোকাল জেলে কিংবা দমদম সেন্ট্রাল জেলে না হলে ভুবনেশ্বরে জগন্নাথ দেখতে পাঠিয়ে দেবো। পঞ্চায়েতের নেতারা এই জেলে থাকবে। যারা জেলা স্তরের নেতা এবং এমএলএ তারা সেন্ট্রাল জেলে থাকবে আরএমপি হলে ভুবনেশ্বর কটকে জগন্নাথ দর্শন করতে পাঠিয়ে দেবো।”

তিনি বলেন, “এখন টেলার শুরু হয়েছে। ফিল্ম দেখবেন মে মাসের পর। কাউকে ছাড়া হবে না। কটা পুলিশ নিয়ে আমাকে ভয় দেখানো হচ্ছে। পুরো বীরভূম জেলাকে বোম বারুদের কারখানা করে রাখা হয়েছে।”রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষরা আজকে দলে দলে বিজেপিতে আসছে। বিজেপি তাদের প্রকৃত উন্নয়ন করেছে। আমি বলে দিচ্ছি বিজেপি ক্ষমতায় এলে আপনারা ( রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদে) সব থেকে বেশি উপকৃত হবেন। সম্মানের সঙ্গে থাকবেন। কেউ আপনাদেরকে ট্যারা চোখে তাকাতে পারবে না। যান যেখানে বিজেপি শাসিত রাজ্য আছে সেখানে দেখে আসুন। এরা ভয় দেখাবে। গুজরাট মধ্যপ্রদেশ উত্তরপ্রদেশের মুসলিমরা কত ভালো আছে।”