উল্টো পুরাণ! তৃণমূলে যোগ দেবেন ৬-৭ জন বিজেপি সাংসদ, দাবি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের

0

হাবরা: বঙ্গ নির্বাচনের ডঙ্কা বেজে গিয়েছে। সেই মতো মাঠে ময়দানে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শাসক ও বিরোধী শিবির। লড়াইটা যে ইঞ্চি ইঞ্চিতে হতে চলেছে তা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রচার পর্ব থেকেই। শুরু হয়েছে দলবদলের পালাও। গেরুয়া হাওয়ায় গা ভাসিয়ে শাসক শিবির ছেড়েছেন বেশ কিছু হেভিওয়েট নেতা। রাজ্যের বিভিন্ন সভা থেকে তারাই এখন বিজেপি সরকার গড়ার হুঙ্কার দিচ্ছে।

কিন্তু হঠাৎ উল্টো পুরাণের ইঙ্গিত দিলেন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। মঙ্গলবার তাঁর দাবি রাজ্য রাজনীতিতে ‘খেলা’ ঘোরানোর জন্য যথেষ্ট। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কথা সত্যি হলে, গেরুয়া শিবিরের অনেক হিসবে ওলট পালট হয়ে যাবে। হয়তো আমিত শাহের সেট করা টার্গেটও অধরা থাকতে পারে। বলা বাহুল্য, নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষাতেও গেরুয়া শিবির কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি। তাই রাজনৈতিক মঞ্চে পূর্ণশক্তি ঝাঁপিয়ে পড়েছে পদ্ম শিবির।

মঙ্গলবার স্বামী বিবেকানন্দের ১৫৮ তম জন্মতিথিতে উত্তর ২৪ পরগনার হাবরায় শোভাযাত্রার পর জ্যোতিপ্রিয়র দাবি ছিল রীতিমতো ‘চাঞ্চল্যকর’। কারণ এদিন তিনি বলেন, আগামী মে মাসের মধ্যেই নাকি ৬-৭ জন বিজেপি সাংসদ যোগ দেবেন তৃণমূলে। আর সেই যোগদানের কয়েক মাসের মধ্যেই নিজের আখের গুছিয়ে বিজেপি ছেড়ে নাকি তৃণমূলে চলে আসবেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। জ্যোতিপ্রিয়র এহেন দাবিতে আলোড়ন পড়ে যায় রাজনৈতিক মহলে। এদিন স্বামী বিবেকানন্দর বাড়িতে মাল্যদান করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। সেই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “শুভেন্দু অধিকারী কী ভাবছেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশার শেষ নেই। ওঁর পক্ষে চার-পাঁচ মাসও বিজেপিতে থাকা সম্ভব নয়। কয়েক মাস পরেই তিনি হয়ত বিজেপি ছেড়ে দেবেন।”

একেবার ‘নিশ্চিত’ হয়ে জ্যোতিপ্রিয়র দাবি, “বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, খুব তাড়াতাড়ি বিজেপির ৬-৭ জন সাংসদ তৃণমূলে যোগ দেবেন। যে বিধায়করা আমাদের ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁরাও এখন লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন আসার জন্য। নিজেদের ভুল তাঁরা বুঝতে পেরেছেন।”

আসন্ন বিধানসভায় ক্ষমতা ধরে রাখার প্রসঙ্গে জ্যোতিপ্রিয় বলেন, “আগামী বিধানসভা নির্বাচনে খুব ভালো ফল করবে তৃণমূল। অন্ততপক্ষে ২২০-র বেশি আসন পাবে তৃণমূল। আর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে যাঁরা বিজেপিতে যোগ গিয়েছিলেন, তাঁরাও ফিরতে চেয়ে এখন আবেদন-নিবেদন করছেন।”

দলবদলু নেতা যেমন শুভেন্দু-শোভনদের কটাক্ষ করে জ্যোতিপ্রিয় দাবি করেন, “যারা আজ তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়ে কথা বলছে, তারা সবাই চিটফান্ড দুর্নীতিতে যুক্ত। এত টাকা কামিয়ে ফেলেছেন, হজম করতে পারছেন না, তাই ইডি-সিবিআই তাঁদের ডেকে পাঠাচ্ছে। অপেক্ষা করুন, মে মাসের শেষে সবাই তৃণমূলে ফিরতে চাইবে। লাইন পড়ে যাবে তখন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here