সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সভায় উত্তরপাড়ার বিধায়কের গরহাজির, জল্পনার ইতি টানবেন মঙ্গলবার জানালেন প্রবীর

0

হুগলি: কয়েকদিন আগে চন্দননগর থেকে উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষালকে বিজেপিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আর সোমবার পুরশুড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় গরহাজির প্রবীর। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। সম্প্রতি তিনি বেসুরো নেতাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। কিন্তু সমস্ত জল্পনার অবসান করবেন মঙ্গলবার। তিনি নিজেই সেকথা জানিয়েছেন।

চলতি মাসেই প্রথমবার ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। বিধায়ক বলেছিলেন, “লোকসভা নির্বাচনে আমাদের ফল খারাপ হয়েছিল। তারপরেও সংগঠনে বদল হয়। তবে তা কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। সংগঠন এবং প্রশাসনিক কাজে ত্রুটি রয়েছে। এটা বলতে কোনও দ্বিধা নেই।” তারপর থেকে এখনও অবদি সুর ফিরে পাননি ওই ‘বেসুরো’ বিধায়ক। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন উত্তরপাড়ার বিধায়ক। দাবি করেন, তাঁকে নাকি পরিকল্পনা করে আসন্ন নির্বাচনে হারানোর চেষ্টা চলছে। এই অভিযোগে স্বাভাবিকভাবেই বেশ অস্বস্তিতে পড়ে যায় ঘাসফুল শিবির। এমনকি বারবার পঞ্চায়েত বলেও রাস্তায় ঠিক হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে তাঁর পরাজয় কার্যত নিশ্চিত বলেই তিনি ধরে নিয়েছেন।

এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সভায় অনুপস্থিত ছিলেন প্রবীর ঘোষাল। এদিকে সোমবার হুগলির পুরশুড়ার সভায় বেসুরো নেতাদের এখুনি দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি। অবশ্যই সেই তালিকায় ছিলেন প্রবীর ঘোষালও। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যারা যারা যাচ্ছ, তাদের আর আমরা নেব না। কারণ, কাকে কাকে নিতে হয় আমরা জানি।” আরও বলেন, “আরও যারা যারা লাইন দিয়ে আছ, তাড়াতাড়ি চলে যাও, ট্রেন ছেড়ে দেবে। ইচোর-এঁচোড়রা সব পালিয়ে যাও। ওদের পায়ে গিয়ে পড়। বিজেপিতে গিয়ে চুরির টাকা রাখ। টাকা করেছ, তাই বিজেপির ঘরে রাখতে যাচ্ছ।”

দলনেত্রীর সাফ কথা, “বাংলা তোমাদের চায় না। তৃণমূল তোমাদের চায় না। তৃণমূলে টিকিট পাবে না বুঝেই দলবদল করেছ। কেন তোমাদের টিকিট দেবে? তোমরা তো মানুষের জন্য কাজ করনি! কেউ চলে গেলে যায় আসে না। আমরাই ছিলাম, আর আমরাই থাকব।”