আদি-নব্য দ্বন্দ্ব নিয়ে অস্বস্তিতে রাজ্য গেরুয়া শিবির

0

কলকাতা: ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই বিজেপির অন্দরে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তি বাড়ছে গুরুয়া শিবিরের। ভোটের আগে নীল বাড়ি দখলের অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব। কারণ সম্প্রতি শাসক দল থেকে বিজেপিতে যোগদানের হিড়িক লেগেছে রাজ্য রাজনীতিতে। আর দলে ঢুকতেই তাদের প্রভাব বাড়ছে তড়তড়িয়ে। যা মানতে পারছে না পুরোনো বিজেপি নেতারা। দলের ভিতরে বাড়ছে ‘আমরা-ওরা’ শব্দের ব্যবহার। আর বঙ্গ রাজনীতিতে এর প্রচলন শেষ দশ বছরে খুব একটা চোখে পড়েনি। তবে বিজেপির দৌরাত্ম্যে তা ফের শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত বিজেপি বরাবর নিজেদের ‘শৃঙ্খলাবদ্ধ’ দল বলে দাবি করে এসেছে। দলবদলু নেতা শুভেন্দুও এই ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাই সেই দলে এহেন অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে চিন্তিত দিল্লী। কারণ অন্য দল ভাঙিয়ে নেতা নিয়ে আসন্ন ভোটে জিতে গেলেও অদূর ভবিষ্যতে রাজ্য গেরুয়া শিবিরকে বিপাকে ফে‌লতে পারে আদি-নব্য দ্বন্দ্ব। তাই রাজ্য গেরুয়া শিবিরকে কড়া নজরদারি করার জন্য পাঁচ জন পর্যবেক্ষককে নিয়োগ করেছে কেন্দ্রীয় বিজেপি। দলের ভিতরে এই গুরুতর সমস্যা নিয়ে অনেকে জানাচ্ছেন, প্রার্থী বাছাই করবেন স্বয়ং অমিত শাহ। তখন দলের অন্দরে এই ধরনের দাবিদাওয়া আক্ষরিক অর্থেই ‘অস্তিত্বহীন’ হয়ে পড়বে। দিল্লি যা বলবে, সেটাই মেনে নিতে হবে।

২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে গিয়েছিলেন মুকুল রায়। তারও আগে থেকে রাজ্য গেরুয়া শিবির সামলাচ্ছেন রাহুল সিনহা, দিলীপ ঘোষরা। কিন্তু মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই দিলীপ-রাহুলের প্রভাব প্রতিপত্তি কমে আসে। অনেক সময়ই মুকুলের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের বিবাদ প্রকাশ্যে এসে গিয়েছে। একাধিকবার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দুই নেতাকে একসঙ্গে নিয়ে বসেছেন। একসঙ্গে চলার নির্দেশও দিয়েছেন। কিন্তু বরফ গেলেনি। চাপা টেনশনটা রয়েছে। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী নিয়েও দোলাচলে গেরুয়া শিবির। নাম ঘোষণা না করলেও ‘ভূমিপুত্র’ই মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা জানিয়ে দিয়ে গেছেন অমিত শাহ। তাই মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসেবে উঠে এসেছে একাধিক নাম। মুকুল, দিলীপ, সদ্য দলবদলু শুভেন্দু। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপরীতে ‘মুখ’ খুঁজতে গিয়ে অথৈ জলে বিজেপি।

গত লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে ১২১ টি বিধানসভা আসনে বিজেপি এগিয়ে। সেবার ১৮ আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। তার সেই জয়ের পর যারা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তাদেরকে ‘নব্য’ বলেই ধরছে রাজ্য বিজেপির ‘আদি’–দের একাংশ। আর তাঁরাই আওয়াজ তুলছেন, গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা নেতাদেরই এগিয়ে থাকা ১২১ টি আসনে প্রার্থী করা হোক। যাঁরা পরে এসেছেন এবং এর পরেও আসবেন, তাঁরা লড়ুন বাকি ১৭৩ আসনে। এবং জিতে দেখান! ওই ‘আদি’ নেতাদের বক্তব্য, যে সব এলাকায় বিজেপি একাই জেতার মতো জায়গায় রয়েছে, সেখানে দলের নীতি আলাদা হোক। অনেক ক্ষেত্রে এমনও বলা হচ্ছে যে, তৃণমূল থেকে এমন অনেক নেতা বিজেপি–তে এসেছেন বা আসতে পারেন, যাঁদের সঙ্গে দলের কর্মীদের লড়তে হয়েছিল লোকসভা নির্বাচনে। যেমন পাণ্ডবেশ্বর আসানসোলের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি।

কয়েকদিন আগেই শোনা যাচ্ছিল তিনি বিজেপিতে আসবেন। আর তা নিয়ে সরব হয়েছিল বিজেপি দলের একাংশ। দল বিরোধী মন্তব্য করেছিলেন সায়ন্তন বসু, অগ্নিমিত্রা পাল, বাবুল সুপ্রিয়। জিতেন্দ্র নিয়ে প্রকাশ্যে ‘দল বিরোধী’ মন্তব্য করায় শো–কজ করা হয়েছিল সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু, মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল–সহ চার জনকে। এদিকে অমিত শাহের সেট করা ২০০টা আসনের পেতে ঝাঁপিয়ে পড়েছে রাজ্য গেরুয়া শিবির। শুক্রবার ফের অমিত শাহ দুদিনের সফরে বাংলায় আসছেন। এই সফরে তৃণমূলে বড়সড় ভাঙন দেখা যেতে পারে। তবে নীল বাড়ি দখলে অমিত শাহের সবচেয়ে বড় কাঁটা হলো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের অভ্যন্তরের আদি-নব্য দ্বন্দ্ব।