“আমি উৎসুক বাংলায় উপস্থিত হওয়ার জন্য” ঠাকুরনগরে সভা করার আগে বাংলায় ট্যুইট শাহের

0

ঠাকুরনগর: একটার পর একটা তারিখ যাচ্ছে তবু সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কোনো সুস্থিত বার্তা কেন্দ্রের থেকে পাচ্ছে না মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা। আর তাই বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের আগে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষদের মধ্যে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে। যা নিয়ে বেজায় অস্বস্তিতে রাজ্য গেরুয়া শিবির। বর্তমানে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানটুকু স্পষ্ট জানতে চাইছে। কারণ ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে মতুয়াদের। নাগরিকত্ব আইন নিয়ে কেন্দ্রের এই ‘টালমাটাল’ অবস্থান নিয়ে অতিষ্ঠ মতুয়াদের একাংশ। এই সমস্ত কিছুর মধ্যেই আজ রাজ্যে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বঙ্গে আসার আগে এবং ঠাকুরনগরে সভা করার আগে বাংলায় ট্যুইট করেছেন শাহ।

বাংলাইর মন পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। লড়ন কেন্দ্রীয় নেতারা যতবারই বঙ্গে আসছেন সভা করতে ততবারই ভুল হলেও বাংলায় কথা বলার চেষ্টা করছেন তাঁরা। ঠাকুরনগরে সভা করার আগে মঙ্গলবার অমিত শাহ ট্যুইট করে লিখেছেন, “আমি উৎসুক,আগামীকাল বাংলায় উপস্থিত হওয়ার জন্য। কোচবিহার থেকে বঙ্গ বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার চতুর্থ পর্যায় সূচিত হবে এবং ঠাকুরনগরে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আমি আমাদের সোশ্যাল মিডিয়ার স্বেচ্ছাসেবীদের সাথেও আলাপচারিতায় অংশগ্রহণ করব।” সূচী অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টা ৩০ মিনিটে কোচবিহার থেকে পরিবর্তন যাত্রার সূচনা হবে। বিকেল ৩ টে ২০ মিনিটে ঠাকুরনগরের শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করবেন শাহ। বিকেল ৩ টে ৪৫ মিনিটে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি ময়দানে জনসমাবেশ করবেন তিনি। সন্ধ্যা ৬ টার সময় শাহ সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে সোশ্যাল মিডিয়ার স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে কথা বলবেন অমিত শাহ।

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ঠিক কি বার্তা দেন সেইদিকেই চোখ রাজ্যবাসীর। বলা যায়, সেই বার্তাই নির্ধারণ করবে মতুয়াদের ভবিষ্যত। সেই প্রস্তুতিই বুধবার খতিয়ে দেখেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। শান্তনুর বার্তা, ‘‘এর আগে কেউ সিএএ নিয়ে ভাবেননি। মতুয়ারা এই দাবি দীর্ঘ দিন ধরেই জানিয়ে আসছে। আগামিকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর ভাষণে সিএএ নিয়ে তাঁদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দেবেন।’’ অন্যদিকে তৃণমূল প্রাক্তন সাংসদ মমতবালার বক্তব্য, ‘‘অমিত শাহ রাজনৈতিক সভা করতে আসছেন। উনি সিএএ নিয়ে কিছুই বলবেন না। কারণ উনি জানেন, এটা কখনই করতে পারবেন না।’’ শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। কয়েকদিনের মধ্যেই নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে যাবে। দেওয়াল লিখনও শুরু হয়েছে রমরমিয়ে। শাসক – বিরোধী দুই শিবিরই ময়দানে পুরোদমে নেমে পড়েছে।

‘ক্ষমতা রক্ষা’ ও ‘ক্ষমতা দখলে’র লড়াইটা ইঞ্চি ইঞ্চিতে। আর সেই সূত্রেই শাসক – বিরোধী দুই দলেরই চোখ পড়েছে মতুয়া ভোটে। বোঝা যাচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মতুয়া ভোট হবে ‘নির্ণায়ক’। এই মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বড়ো ইস্যু হলো ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’। আর এই সিএএ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘গড়িমসি’র জেরে নাগরিকত্বের প্রশ্নে ‘মন্থন’ চলছে মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে। যার ইঙ্গিত মিলেছিল চলতি মাসের শুরুতেই। যখন শেষ মুহুর্তে অমিত শাহের সভা বাতিল হয়ে যায়। রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের গাড়ি ঘিরে মতুয়া সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ চরমে উঠেছিল। চলতি সপ্তাহের সোমবার বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর অমিত শাহের সভার নতুন দিন ঘোষণা করে। বৃহস্পতিবার ঠাকুরনগরে অমিত শাহ সভা থেকে ঠিক কি বার্তা দেন সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here