“ওয়াল ফর বিজেপি(আদি)” বর্ধমানে ছয়লাপ এই লেখা, প্রকাশ্যে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল

0

বর্ধমান: শিয়রে বিধানসভা নির্বাচন। যেকোনো সময় ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু তার আগে দলের ভিতরে গোষ্ঠী কোন্দল নিয়ে বেসামাল রাজ্য বিজেপি। দলের ভিতরেই প্রতিপত্তি দেখাচ্ছে ‘আমরা – ওরা’ শব্দবন্ধ। অর্থাৎ আদি নব্য দ্বন্দ্ব নিয়ে বেকায়দায় গেরুয়া শিবির। যা কপালে ভাঁজ ফেলেছে দিলীপ-মুকুলের। কয়েকদিন আগেই এক যোগ্য নেতাকে পদ থেকে সরানোর অভিযোগে বিজেপির সদর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিল বিজেপি কর্মীরা। তখন হাটে হাঁড়ি ভেঙেছিল। সেই আদি নব্য দ্বন্দ্বই ভোটের আগে আরও প্রকাশ্য হল এবার বর্ধমানে।

উল্লেখ্য ভোটের নির্ঘন্ট ঘোষণা হলেই দেওয়াল লিখন জোরকদমে শুরু হবে। এখন চলছে দেওয়াল দখলের কাজ। বর্ধমানে বিজেপির বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ‘বিজেপি আদি’ নামে দেওয়াল দখল শুরু করল এলাকায়। যা নিয়ে তুঙ্গে বিতর্ক। উল্লেখ্য এর আগেও কালনার বিধায়ক বিজেপিতে যাওয়ার পর আদি নব্য দ্বন্দ্বে বেকায়দায় পড়েছিল বিজেপি। জানা গিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম বিধানসভা ও গলসি বিধানসভা সীমান্ত এলাকায় বেশকিছু দেওয়ালে লেখা আছে, “ওয়াল ফর বিজেপি (আদি)”। অর্থাৎ দেওয়ালটি পুরোনো বিজেপি কর্মীদের। সেখানে নতুন দলবদলু বিজেপিরা দেওয়াল লিখন করবে না।

এ বিষয়ে গলসির কুরকুবা অঞ্চলের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা বিজেপি কর্মী দেবব্রত মণ্ডল বলেন, “আমি ১৯৯১ সাল থেকে দল করছি। আমরা ‘বিজেপি আদি’ নামে দেওয়াল দখল করে উচ্চ নেতৃত্বের কাছে বার্তা দিতে চাইছি যে, দলের মধ্যে বেনোজল ঢোকায় আমরা কোণঠাসা। কিন্তু আমরা এখনও মরিনি। এখন দেওয়াল দখল করে রাখছি। ভবিষ্যতের আলোচনা করে পদক্ষেপ করা হবে।”

বিজেপির আউশগ্রাম বিধানসভার ৫৩ নম্বর মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি স্মৃতিকান্ত মণ্ডল নিজেকে বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর ‘মুখপাত্র’ বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “যাঁরা দলের দুর্দিনের সময় বহু ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে বিজেপির সংগঠন সামলে এসেছিলেন এখন তাঁদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তাই সেই সব লড়াকু বিজেপির কর্মীরা দেওয়াল দখল শুরু করছে। যদি ভোটের সময় পুরাতন কর্মীরা গুরুত্ব না পান তাহলে এইসমস্ত দখল করা দেওয়ালে নির্দল প্রার্থীর হয়ে ভোটপ্রচার করা হবে।” স্মৃতিকান্ত মণ্ডলের কথায়, “দলের বর্ধমান(সদর) সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীর বিরুদ্ধেই মূলত তাদের ক্ষোভ। যদি পুরানো দিনের কর্মীদের নিয়ে একসঙ্গে চলার মানসিকতা দেখানো না হয় তাহলে আমরা ঠিক করেছি বর্ধমান(সদর)জেলার মেমারি, জামালপুর, রায়না, খণ্ডঘোষ, গলসি, আউশগ্রাম, ভাতার, বর্ধমান(উত্তর) ও বর্ধমান(দক্ষিণ) এই ৯ টি কেন্দ্রেই নির্দল প্রার্থী দেওয়া হবে।”

এপ্রসঙ্গে বর্ধমানের(সদর) বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টিকে যারা মনেপ্রাণে ভালবাসেন তাঁরা এই ধরনের কথা বলতে পারেন না। আমাদের দলে অনেক আদি কর্মী রয়েছেন যাঁরা পদ না পেয়েও দলের হয়ে নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছেন। যদি বিজেপিকে কেউ ভালোবেসে থাকেন তাঁরা বিজেপিতেই থাকবেন।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here