কেন্দ্র ভ্রুক্ষেপহীন! শেষমেশ মানুষের স্বস্তি ফেরাতে পেট্রোপণ্যের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

0

কলকাতা: ভোটের মুখে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। যা কিছুটা হলেও নিত্যদিনের গাড়ি চালকদের কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। আসাম, মণিপুরের পর এবার পশ্চিমবঙ্গও পেট্রোল ডিজেলের উপর চাপানো শুল্ক বেশ খানিকটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এমনটাই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। বিশেষ করে সেই সময় যখন রোজই বাড়ছিল পেট্রোল ডিজেলের দাম। অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভাঙছিল জ্বালানির দাম। পেট্রোল পাম্পে ঢুকলেই পকেটে আগুন জ্বলছে সাধারণ মানুষের। সেই সময় এই বড় সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের উপর বোঝা লাঘব করতে আজ রাত থেকেই পেট্রল এবং ডিজেলের উপর থেকে রাজ্যের চাপানো সেস ১ টাকা করে কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থাৎ, রবিবার মধ্যরাত থেকেই রাজ্যের বসানো সেস কমছে পেট্রোপণ্যে। দাম কমানোর পর রাজ্যে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম দাঁড়াবে ৯০ টাকা ৪১ পয়সা। এর আগে দাম ছিল ৯১টাকা ৪১ পয়সা। পাশপাশি ডিজেলের দাম হবে ৮৩ টাকা ১৯ পয়সা। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় এর আগে আসাম ও মণিপুরও পেট্রোল ডিজেলের দামের উপর রাজ্যের শুল্ক কমিয়ে সাধারন মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এবার সেই রাস্তাতৈই হাঁটল মমতার পশ্চিমবঙ্গ।

এদিকে পেট্রোল ডিজেলের উত্তরোত্তর দাম বৃদ্ধি নিয়ে রীতিমত হতাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পেট্রোল ডিজেলের দাম নির্ধারণ পুরোপুরি বাজারের হাতে ছেড়ে দিয়েছে কেন্দ্র। উল্লেখ্য বাজেটে জ্বালানির উপরে কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস বসানোয় দাম আকাশছোঁয়া। দেশের কোথাও কোথাও সেই দাম ১০০ ছড়িয়েছে। প্রায় টানা দু’সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন পেট্রোল ডিজেলের দাম বৃদ্ধি চলেছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রী নির্মলা স্বীকার করেছেন পেট্রপণ্যের উত্তরোত্তর মূল‌্যবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। দাম কমাতে কেন্দ্র রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা চায় বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

শনিবার অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটি অত‌্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। এখন জ্বালানির দাম কমানো ছাড়া আর কোনও উত্তরই কাউকে সন্তুষ্ট করতে পারবে না। এই বিষয়ে কেন্দ্র ও রাজ‌্যগুলির একসঙ্গে আলোচনায় বসা উচিত, যাতে ক্রেতাদের জন‌্য তেলের দাম একটি ন‌্যায‌্য ও যুক্তিযুক্ত সীমার মধ্যে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।” তবে বিষয়টি যে তাঁর হাতে নেই, তাও ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন সীতারমণ।

প্রসঙ্গত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ রাজ্যজুড়েই প্রতিবাদে নেমেছে তৃণমূল। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে শহর কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তেও চলছে শাসক শিবিরের বিক্ষোভ। যাতে উপস্থিত আছেন তৃণমূলের শীর্ষনেতারা। আসলে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে এই মুহূর্তে বেশ চাপে বিজেপি। যা আরও বাড়াতে চাইছে রাজ্যের শাসকদল। আর সেকারণেই আন্দোলনের পাশাপাশি আগ বাড়িয়ে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে চমক দিলেন অর্থমন্ত্রী।