“বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় নির্বাচন হবে এক দফায়” মন্তব্য দিলীপ ঘোষের

0

কলকাতা: বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ের দিন নির্ধারণ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে 294 টি আসনের জন্য নির্বাচন হবে আট দফায়। শুরু হবে ২৭ মার্চ থেকে। কিন্তু কেনো আট দফায় নির্বাচন হবে এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ডামাডোল। এই সমস্ত কিছুর মধ্যেই সেই বিতর্ক উস্কে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন বঙ্গে যদি বিজেপি যদি ক্ষমতায় আসে তবে সাত বা আট দফায় নয় নির্বাচন হবে এক দফায়। এই মন্তব্য ঘিরেই তোলপাড় হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতি।

আট দফায় ভোট ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন “কেন বাংলায় হচ্ছে আট দফায় নির্বাচন। কাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এই কাজ করেছে নির্বাচন কমিশন?” তার পরেই শনিবার বালুরঘাটে চা চক্রে যোগ দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে একদফায় ভোট হবে। এটা আত্মসম্মানের ব্যাপার, করতেই হবে। এখানে রাজনৈতিক নেতাদের পাহাড়ায় জওয়ানরা থাকে, পুলিশকে পাওয়া যায় না।” দিলীপ ঘোষের এই মন্তবের পরেই সরব হয়েছেন অনান্য রাজনৈতিক নেতারা। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘তৃণমূল, বিজেপি দল ছাড়া কিছু বোঝে না। তৃণমূল বলছে আট দফায় কেন, তৃণমূলই তো বলত সাত দফায় ভোট। তৃণমূলের অপদরর্থতার জন্য আট দফায় হচ্ছে ভোটগ্রহণ। বিজেপি বলছে একদফায় ভোট। অপদার্থের দল কখনও আসবে না।’ অন্যদিকে তৃণমূল নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্যকে কটাক্ষ করে বলেছেন, “দিলীপ ঘোষ পদ্ধতিটাই জানেন না। ক’দফায় ভোট হবে, সেটা কমিশন ঠিক করে। কমিশন জোর করে আটদফায় করছে। দিলীপ ঘোষ কীভাবে বলছেন একদফায় করবেন, জানি না। দিবাস্বপ্নই থেকে যাবে।”

উলেক্ষ্য, মমতার আট দফায় ভোট প্রসঙ্গে মন্তব্যের জবাব দিয়ে বিজেপি নেতা “২০১১ সালের নির্বাচনের সময় তো মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন আট দফায় ভোট হোক।” তার পরেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, ২০১১ সালের পরে এই রাজ্যে কোনও ভোট শান্তিপূর্ণ ভাবে হয়নি। ফেরেনি গণতন্ত্রের পরিবেশ। এই পরিবেশ কারা তৈরি করেছে? কেন আজ ৮ দফায় ভোট করতে হচ্ছে?” উল্লেখ্য, শুক্রবার নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছেন বাংলায় নির্বাচন শুরু হবে, প্রথম দফার ভোট ২৭ মার্চ শুরু হবে। প্রথম দফায় ৩০টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ১ এপ্রিল হবে দ্বিতীয় দফায়, ৬ এপ্রিল তৃতীয় দফায়, ১০ এপ্রিল চতুর্থ দফায়, ১৭ এপ্রিল পঞ্চম দফায়, ২২ এপ্রিল ষষ্ঠ দফায়, ২৬ এপ্রিল সপ্তম দফায় ও ২৯ এপ্রিল অষ্টম দফায় ভোটগ্রহন হবে পশ্চিমবঙ্গে।