বিজেপির অন্দরেই জিতেন্দ্রর বিরুদ্ধে সওয়াল: পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভায় নির্দল প্রার্থীকে জয়ী করুন

0

আসানসোল: দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর অবশেষে জল্পনাতেই শিলমোহর পড়েছিল। আসানসোলের বেতাজ বাদশা পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি যোগ দিয়েছেন বিজেপি’তে। মঙ্গলবার সন্ধেয় বৈদ্যবাটির বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের সভা থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন জিতেন্দ্র তিওয়ারি। সূত্রের খবর ছিল বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর আসানসোল বিধানসভা কেন্দ্র থেকে মলয় ঘটকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র। এবার জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়েই সমস্যা দেখা দিল দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকে। অনেকেই জিতেন্দ্রকে পছন্দ করেন না। নির্বাচনের জন্য সেখানে দেওয়াল লিখন শুরু হয়েছে। সেখানেই লেখা জিতেন্দ্রকে সমর্থন নয়, নির্দল প্রার্থীকে জয়ী করুন।

এর আগে আসানসোলের প্রাক্তন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির বিজেপিতে যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু তাঁকে দলে নেওয়া নিয়ে বিজেপির অন্দরের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। মূলত আসানসোলের বাবুল সুপ্রিয়। এছাড়াও অগ্নিমিত্রা পাল ও সায়ন্তন বসু। তারপর ফের তিনি ঘাসফুল শিবিরেই ফিরে যান। এমনকি সেখানের আদি বিজেপি কর্মীরা একেবারেই পছন্দ করেন না জিতেন্দ্র তিওয়ারিকে। তাঁর পরেও জিতেন্দ্রর বিজেপিতে যোগ দান করেছেন। এই নিয়েই বিজেপি কর্মীদের অসন্তোষ। তারই প্রতিফলন ঘটেছে দেওয়াল লিখনে। বর্ধমানের বিজেপির বিক্ষুব্ধ কর্মী সান্তনা দিয়ে বিজেপির জেলা সম্পাদক শ্রীদীপ চক্রবর্তী বলেন, “জিতেন্দ্র তিওয়ারি তৃণমূলে থাকার সময় বিজেপি কর্মীদের উপর নানা অত্যাচার করেছেন। তারই প্রতিফলন ঘটছে। তবে দল বৃদ্ধি করতে অনেকেই ঢুকবে। শক্তিশালী বিজেপি আরও বিপজ্জনক হবে শাসকদলের কাছে।” তবে এই নিয়ে বিজেপির কর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়েছেন।

সূত্রের খবর, নিজের কেন্দ্র পাণ্ডবেশ্বর থেকে টিকিট পেতেন না তৃণমূলের একদা দাপুটে নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি। রানিগঞ্জ বিধানসভার টিকিট দেওয়া হতো বলে দাবি। ঘনিষ্ঠ মহলে জিতেন্দ্র জানিয়েছিলেন, রানিগঞ্জ থেকে লড়তে অনিচ্ছুক তিনি। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ওই কেন্দ্র থেকে জয় পাওয়া কঠিন ছিল তাঁর পক্ষে। প্রসঙ্গত, সপ্তাহ কয়েক আগে তাঁকে নতুন দায়িত্ব দিয়েছিল তৃণমূল। জাতীয় মুখপাত্রের দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দায়িত্ব নিয়ে খুব একটা খুশিও ছিলেন না তিনি। ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছিলেন, কার্যত ক্ষমতাহীন দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। তাই এই দলবদল। অন্যদিকে জিতেন্দ্রর বিজেপিতে যোগ দেওয়া নিয়ে বাবুল সুপ্রিয় বিরোধিতা করেছিলে। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর বাবুল সুপ্রিয় বলেন পুরানো সব কিছু ভুলে নতুন করে কাজ করতে চাইলে এক সঙ্গে কাজ করবেন।