আন্তর্জাতিক সীমান্তে ৫০ লক্ষ টাকার সোনা সহ এক সিভিক পুলিশকর্মীকে গ্রেফতার করল বিএসএফ

0

উত্তর চব্বিশ পরগণা: ২০২১ সালের ১০ মার্চ, দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের অধীনে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর জওয়ানরা সীমান্তে এক জন চোরাচালানকারেকে  ৯৯৮ গ্রাম সোনা (আনুমানিক ০১ কেজি) সহ গ্রেপ্তার করেছে। ভারতীয় বাজারে বাজেয়াপ্ত সোনার বিস্কুটের দাম ৪৭ লক্ষ ১০ হাজার ৪২ টাকা। বিএসএফ চোরাচালানকারীকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করার চেষ্টা করার সময় তাকে ধরে ফেলে। এই চোরাকারবারিকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সীমা চৌকি কাইজুরি , ১৫৩ বাহিনী সীমান্ত চৌকির এলাকা থেকে ধরা হয় ।

১০ মার্চ, সকাল ১২ টা ১০ মিনিটের দিকে, সীমা চৌকি কাইজুরি ১৫৩ বাহিনী বিএসএফ সেক্টর কলকাতার কোম্পানি কমান্ডারকে গোয়েন্দা শাখা মালিকপুর থেকে কাইজুরির মাঝে সোনা চোরাচালানের ব্যাপারে খবর দেয়। খবর পেয়ে কোম্পানি কমান্ডার কাইজুরির ডিউটিতে থাকা জওয়ানকে মোটরসাইকেল (ডাব্লুবি২৬ এল ৫১৮১, লাল রংয়ের হিরো হোন্ডা স্প্লিনডার ) দেখা মাত্রই থামাতে নির্দেশ দেন। মোটরসাইকেলটি আসার সাথে সাথে জওয়ান তাকে থামিয়ে দেয় এবং তল্লাশির জন্য বলে। তল্লাশির সময় মোটরসাইকেলে চরা ব্যক্তির পেছনের পকেটে সোনার একটি টুকরো পাওয়া যায়। সাথে সাথে ওই ব্যক্তিকে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী দ্বারা  গ্রেফতার করা হয় এবং বাজেয়াপ্ত সোনা নিজেদের আয়ত্তে নেওয়া হয় । গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মফিজুর রহমান (সিভিক পুলিশ), বয়স ৩২ বছর।

 প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ব্যক্তি জানায় যে সে ভারতীয় নাগরিক। সে জানায় যেসে এই সোনাটি বকুল গাজীর থেকে নিয়েছিলো এবং বসিরহাটের প্রেম নগরে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীর ডিউটি লাইন পেরিয়ে এটি ফের বকুল গাজীকেই দেওয়া কথা হয়েছিল। সে জানিয়েছে যে সে গত ১০ দিন ধরে এই কাজে যুক্ত আছে। সে বলেছে যে এই পথ দিয়ে সে প্রথমবার যাওয়ার চেষ্টা করে এবং সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী তাকে ধরে ফেলে । সে বলে যে প্রতি বারে সে পার করার জন্য ৫০০ টাকা করে পায় যা একটি মিথ্যা বিবৃতি বলে মনে হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া চোরাচালানকারী এবং বাজেয়াপ্ত সোনার বিস্কুট সহ কাস্টম অফিস তেতুলিয়ায় হস্তান্তর করা হচ্ছে।

 ১৫৩ ব্যাটেলিয়ন এর কমান্ডিং অফিসার শ্রী জওহর সিং নেগি তার জওয়ানদের এই কৃতিত্বের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন, যার ফলশ্রুতিতে একজন ভারতীয় পাচারকারীকে ০১ কেজি (৯৯৮৭ গ্রাম) সোনা সহ গ্রেফতার করা গিয়েছে।  তিনি বলেছেন যে তাঁর জওয়ানরা ডিউটিতে থাকা সতর্কতার জন্যই এটি সম্ভব হয়েছে । তিনি আরও বলেছেন, আইজি, দক্ষিণ বঙ্গ ফ্রন্টিয়ার বিএসএফের দ্বারা প্রচারিত অভিযানের আওতায় তার জওয়ানরা সীমান্তে অপরাধের জন্য শূন্য চোরাচালানের সমাধান বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।